একমাত্র মশা-ই মারতে পারে মশাকে, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন দিশা দেখাচ্ছে গবেষণা

ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, বা চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এবার এক অভিনব পদ্ধতির সন্ধান দিয়েছেন গবেষকরা। প্রচলিত প্রবাদ ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র মতোই, এবার মশা মারতে ব্যবহার করা হবে মশারই অন্য একটি প্রজাতিকে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় এই নতুন তথ্য উঠে এসেছে।

সাধারণত, এডিস, অ্যানোফিলিস, কিউলেক্স ও আরমিজেরিস—এই চার ধরনের মশা মানুষের রক্ত খায় এবং বিভিন্ন রোগ ছড়ায়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, টক্সেরিনকাইটিস ও লুটজিয়া নামের আরও দুই ধরনের মশা আছে, যারা মানুষের রক্ত খায় না। বরং এই দুই প্রজাতির মশার লার্ভাগুলো রোগ সৃষ্টিকারী মশার লার্ভাগুলোকে খেয়ে ফেলে।

বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গৌতম আদিত্য জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে রোগ সৃষ্টিকারী মশাগুলো জন্ম নেয়, সেখানেই টক্সেরিনকাইটিস ও লুটজিয়া প্রজাতির মশা জন্মায়। গাছের কোটর, জমে থাকা জল বা ধানক্ষেতের মতো একই জায়গায় তারা বংশবিস্তার করে। অধ্যাপক আদিত্য এই দুই প্রজাতিকে ‘খাদক মশা’ এবং রোগ সৃষ্টিকারী মশাগুলোকে ‘খাদ্য মশা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়, যা মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কার্যকর নয়। কিন্তু যদি জৈব নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা যায়, তাহলে সহজেই মশার প্রজনন ধ্বংস করা সম্ভব হবে। তার মতে, এই দুই প্রজাতির খাদক মশাকে ব্যবহার করে রোগ সৃষ্টিকারী মশাগুলোকে নির্মূল করা যাবে।

অধ্যাপক আদিত্য আরও জানান, আশির দশকে ড. অমিয়কুমার হাটি ও ড. অমিতাভ নন্দী এই ধরনের গবেষণা করেছিলেন, কিন্তু তারপর পশ্চিমবঙ্গে এই বিষয়ে আর কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এই পুরোনো পদ্ধতিটি নতুন করে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।