দুর্গাপূজার আগে ব্যস্ততা তুঙ্গে, ‘শোলাগ্রাম’ থেকে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে এই জিনিস! আয় কত জানেন?

দুর্গাপূজার আগে যেন উৎসবের আবহ নেমে এসেছে পূর্ব বর্ধমানের বনকাপাসি গ্রামে। দেশের মানচিত্রে ‘শোলাগ্রাম’ নামে পরিচিত এই গ্রাম এখন শুধুই একটি গ্রাম নয়, বরং শোলার কাজের এক বিশাল শিল্পশালা। এখানকার কারিগরদের তৈরি অনন্য শোলার সাজ এবার দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়াতে প্রস্তুত।
শিল্পীদের ব্যস্ততা ও আয়ের উৎস
সারাবছর টুকটাক কাজ হলেও, দুর্গাপূজার আগে শোলার শিল্পীদের ব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কাজ। প্রতিটা বাড়িতে শোনা যায় কাঁচি চালানোর শব্দ, যেখানে তৈরি হচ্ছে মায়ের মুকুট, কানের দুল, চাঁদমালাসহ নানা ধরনের গয়না। শিল্পীরা জানান, এই সময়ে কাজের চাপ থাকলেও তাদের আনন্দ হয়, কারণ এর মাধ্যমে তাদের ভালো আয় হয় এবং তাদের প্রতিভার স্বীকৃতি মেলে।
শিল্পীদের হাতের জাদুতে সাদা শোলার টুকরা মুহূর্তেই অপূর্ব শিল্পকর্মে পরিণত হয়। নিখুঁত নকশা, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং আকর্ষণীয় সাজের জন্য বনকাপাসির সুনাম এখন দেশজুড়ে। শিল্পীরা তাদের কাজের মাধ্যমে যে আনন্দ পান, তার প্রতিফলন দেখা যায় তাদের তৈরি প্রতিটি শিল্পকর্মে।
দেশজুড়ে শোলার সাজের চাহিদা
বনকাপাসির শোলার সাজের চাহিদা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, মুম্বই, গুজরাট, হায়দরাবাদ, অসম, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর মতো শহরেও রয়েছে। গ্রামের অন্যতম প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠান বলরাম সাজ ভাণ্ডার প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার অর্ডার সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। বলরাম সাজ ভাণ্ডারের কর্ণধার ভূবন গড়াই জানান, এই কাজ মূলত চার মাসের, এবং এবার তাদের ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকার আনুমানিক অর্ডার এসেছে।
গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এখন কাজের ব্যস্ততা তুঙ্গে। রাত বাড়লেও কোথাও ক্লান্তি নেই, বরং হাসি, গল্প আর গানের সুরে মুখরিত গ্রাম। দুর্গাপূজার আগমনী হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বনকাপাসি গ্রাম যেন আনন্দে মেতে উঠেছে। শিল্প এবং উৎসবের এই মেলবন্ধন এই গ্রামকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।