পড়ার জন্য কখনও চাপ দেননি বাবা-মা! তাহলে কোন ‘মন্ত্রে’ দেশের মধ্যে নিট টপার কল্যাণ?

নিট পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তা রিভিউ করতে দিয়ে চমক দেখালেন আসানসোলের ছাত্র কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। প্রাথমিক ফলে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর আশানুরূপ না হলেও, রিভিউয়ের পর প্রকাশিত নতুন ফলাফলে তিনি সারা ভারতের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আসানসোল শিল্পাঞ্চলে আনন্দের ঢেউ বয়ে গেছে।
কল্যাণের বাবা ইসিএল-এর কর্মী এবং মা গৃহবধূ। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এই ছাত্রটি রানিগঞ্জের জেকে নগর এলাকার বাসিন্দা। জুন মাসে প্রকাশিত নিটের ফলাফলে তিনি যতটা আশা করেছিলেন, ততটা নম্বর পাননি। এরপরই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর উত্তরপত্র রিভিউয়ের জন্য পাঠান। রিভিউয়ের ফল বেরোনোর পর দেখা যায়, তিনি ৭২০-এর মধ্যে ৬৮৬ নম্বর পেয়েছেন এবং সেই ফলাফলের ভিত্তিতেই তিনি সারা দেশে প্রথম স্থান দখল করেন। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যায় তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯৯ শতাংশের বেশি।
এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পর কল্যাণকে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তিনি বলেন, “শিল্পাঞ্চলের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” ইতিমধ্যেই কল্যাণ দিল্লির এইমসে ভর্তি হয়েছেন। নিউরোসায়েন্স নিয়ে এমডি স্তরের পড়াশোনা শেষ করে প্রথম সারির একজন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
এই সাফল্যের রহস্য সম্পর্কে তার বাবা জানান, কল্যাণকে কখনও পড়াশোনার জন্য চাপ দিতে হয়নি। সে নিজে থেকেই রাত জেগে পড়ত। এমনকি তার নিয়ম মেনে চলা জীবনযাত্রার জন্য কখনও কখনও বাবা-মায়ের বকাও খেতে হয়েছে। কল্যাণ নিজে তার সাফল্যের কারণ হিসেবে শুধু ‘একাগ্রচিত্তে পরিশ্রম’কেই দায়ী করেছেন। তার এই অসাধারণ সাফল্য তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।