সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় তান্ডব! ‘হাওয়া’ হয়ে যায় হাঁস-মুরগি, আতঙ্কে দুর্গাপুরের বাঁশিয়া গ্রামের মানুষ

সন্ধ্যা নামলেই নেকড়ে, হেড়োল (নেকড়ের মতো হিংস্র প্রাণী) এবং শেয়ালের মতো হিংস্র প্রাণী ও বিষধর সাপের আনাগোনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের বাঁশিয়া গ্রামের অফিস পাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রাণীগুলো তাদের হাঁস, মুরগি, ছাগল ও গরুর মতো গৃহপালিত পশুদের শিকার করছে, যা তাদের আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ভৌগোলিক অবস্থান এবং কারণ
বাঁশিয়া গ্রামের চারপাশ ঘন জঙ্গলে ঘেরা এবং কাছেই রয়েছে নাচন ড্যাম। জঙ্গলের প্রাণীগুলো জল পান করতে ড্যামের কাছে আসে এবং অন্ধকারের সুযোগে অফিস পাড়ার ভেতরে ঢুকে পড়ে। অফিস পাড়া নামে পরিচিত এই এলাকায় ১৮টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করে। একসময় এই এলাকা বিদ্যুৎহীন থাকলেও এখন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে এবং রাস্তাঘাটও পাকা করা হয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে আলো না থাকায় হিংস্র প্রাণীদের উৎপাত বেড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, শিল্পের দূষণ রোধে সরকারি পরিত্যক্ত জমিতে বন দফতর একটি বনাঞ্চল তৈরি করেছে, যা কাঁকসা এবং আউশগ্রাম ব্লকের গভীর জঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে ওই এলাকা থেকে হিংস্র প্রাণীদের আনাগোনা এই গ্রামে বেড়েছে। আগে কেবল শেয়ালের উৎপাত থাকলেও এখন নেকড়ে এবং হেড়োলের মতো প্রাণীও দেখা যাচ্ছে।

ক্ষতি এবং সমাধানের দাবি
গ্রামের বেশিরভাগ পরিবার হাঁস, মুরগি, ছাগল ও গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। রাতে বাড়ির ভেতর থেকেও শেয়াল ও নেকড়ে এসব পশুকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীরা স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে এলাকায় পথবাতি বসানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, পথবাতি বসালে এলাকা আলোকিত থাকবে এবং বন্যপ্রাণী ও সাপের উৎপাত কমবে। এতে তাদের আতঙ্ক কমবে এবং রাতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের চলাচলের সুবিধা হবে। স্থানীয়দের আবেদন শুনে পঞ্চায়েত পথবাতি বসানোর আশ্বাস দিয়েছে।