প্রবল ধসে ‘মৃত’ তিন ফিরে এলেন শেষকৃত্যের সময়, বিহারে ঘটলো মির্যাকল

এটি কোনো সিনেমার গল্প নয়, বরং এক বাস্তব ঘটনা। উত্তরাখণ্ডে বন্যার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তিন যুবককে মৃত ভেবে তাদের পরিবারের সদস্যরা শ্মশানে প্রতীকী শেষকৃত্যের আয়োজন করেছিলেন। কুশপুতুল সাজিয়ে চিতার আগুনও জ্বালানো হয়েছিল। ঠিক তখনই তাদের সামনে এসে হাজির হলেন রাহুল মুখিয়া, মুন্না মুখিয়া এবং রবি কুমার। নিজেদের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে তাদের হঠাৎ আগমন দেখে পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা প্রথমে ভূত দেখছেন বলেই মনে করেছিলেন।
এই তিন যুবক বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার মাগালহিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ১৯ বছর বয়সী এই তিন যুবক উত্তরাখণ্ডের ধরালীতে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। গত ৫ আগস্ট সেখানে হঠাৎ বন্যা আসার পর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বারবার চেষ্টা করেও পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি। দীর্ঘদিন কোনো খবর না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ধরে নিয়েছিলেন যে তারা মারা গেছেন।
বিহারের এই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে অনেকেই উত্তরাখণ্ডে শ্রমিকের কাজ করতে যান। ধরালীর বন্যায় এই গ্রামের প্রায় ৪০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারিভাবে মৃতের কোনো তালিকা না পাওয়ায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে ফিরে আসেননি বা যোগাযোগ করেননি, তাদের অনেককেই মৃত বলে ধরে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রতীকী শেষকৃত্য সেরে ফেলেছেন।
রাহুল, মুন্না এবং রবির পরিবারও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু চিতা জ্বলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই তাদের ফিরে আসা পুরো গ্রামকে অবাক করে দেয়। স্বজনহারাদের কান্নার রোল মুহূর্তে আনন্দের রোল, হাসির কলরবে বদলে যায়। মাগালহিয়া গ্রামে ফিরে আসে স্বস্তির নিঃশ্বাস।