‘গরম’ বাড়লে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতাও, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা রিপোর্ট

ভরদুপুরে এক পশলা বৃষ্টির পর যখন আকাশ ঝকঝকে নীল, তখন থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি দেখালেও তার রেশ অনুভব হচ্ছিল ৩৯ ডিগ্রির মতো। কেন এমনটা হচ্ছে? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই অনুভূতির নাম ‘রিয়েল ফিল’ বা প্রকৃত অনুভূতি, যা শুধু কলকাতা নয়, সারা বিশ্বেই বাড়ছে। এর পেছনের কারণ মূলত বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি।

তবে এই অস্বস্তি কেবল শারীরিক নয়, এর প্রভাব পড়ছে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। সম্প্রতি ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, ‘রিয়েল ফিল’ বৃদ্ধির সঙ্গে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিজ্ঞানীরা ১৯৭৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছর ধরে ৬০টি দেশের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং আত্মহত্যার সংখ্যার ওপর গবেষণা করে এমনটাই দেখতে পেয়েছেন।

পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজি (আইআইটিএম)-এর আবহাওয়াবিদরা জানান, দিনের কোনো এক সময়ে থার্মোমিটার যে তাপমাত্রা দেখায়, তা হলো ‘প্রকৃত’ তাপমাত্রা। কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্প, বাতাসের গতি এবং মেঘের পরিমাণ এই তাপমাত্রার অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। জলীয় বাষ্প অনেকটা ভেজা কাপড়ের মতো তাপের বিকিরণে বাধা দেয়, ফলে তাপমাত্রা কম থাকলেও গরমের অনুভূতি অনেক বেশি হয়।

গবেষকদের দাবি, এই বাড়তি আর্দ্রতাই সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। দক্ষিণ আমেরিকা, ভারত, থাইল্যান্ডসহ এশিয়া ও আফ্রিকার ৬০টি দেশে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, যেখানে ‘রিয়েল ফিল’ যত বেশি, সেখানকার মানুষেরা তত বেশি অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, শুষ্ক গরমের চেয়ে আর্দ্রতাজনিত গরম মানুষের জীবনীশক্তি দ্রুত শেষ করে দেয়, যার ফলে হতাশা বাড়ে। তথ্য বলছে, গত ৩৮ বছরে যেসব দেশে ‘রিয়েল ফিল’ বেড়েছে, বিশেষ করে গরমের সময়গুলোতে সেখানে আত্মহত্যার হারও বেড়েছে।