তিনবার বিয়ে করেও যৌনসুখ না মেলায় প্রেমিকের সঙ্গে পলায়ন, মায়ের কীর্তিতে চরম পরিণতি ৬ মাসের কন্যার

নিজের মায়ের কৃতকর্মের জেরে চরম পরিণতি হল মাত্র ছয় মাস বয়সী এক শিশুকন্যার। একাধিক বিয়ে করেও ‘যৌনসুখ’ না মেলায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন যুবতী। এরপর প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় সদ্যোজাত কন্যাকে নিজের বাবা-মায়ের কাছে রেখে যান। কিন্তু মেয়ের এমন কাণ্ড দেখে ক্ষুব্ধ দাদু ও দিদিমা সেই নাতনিকে খুন করে কালভার্টের নিচে ফেলে দেন। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ছয় মাসের ওই শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগে তার দাদু ও দিদিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলাও রুজু করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের কাহিনি
জলন্ধরের পুলিশ আধিকারিক সর্বজিৎ সিং রাই জানান, ওই যুবতী এর আগে তিনবার বিয়ে করেন, কিন্তু কোনও বিয়েতেই তিনি সুখী ছিলেন না। তৃতীয় বিয়ের পরও তিনি এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি, তিনি তার প্রেমিককে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সদ্যোজাত সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না, তাই তাকে নিজের বাবা-মায়ের কাছে রেখে যান। যুবতীর ধারণা ছিল, তার বাবা-মা নাতনিকে ভালোভাবে দেখভাল করবেন।

হিমশিম খাওয়া ও ক্ষোভ থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড
কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটি দিনরাত কান্নাকাটি করত। বৃদ্ধ দম্পতি নাতনির কান্না সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। মেয়ের ওপর ক্ষোভ ও নাতনির কান্না সহ্য করতে না পেরে তারা শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এরপর তারা মৃতদেহটি একটি কালভার্টের নিচে ফেলে পালিয়ে যান।

পুলিশি জেরায় বৃদ্ধ দম্পতি তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেন এবং মৃতদেহটি যেখানে ফেলেছিলেন সেই জায়গার সন্ধান দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

পুলিশ আধিকারিক সর্বজিৎ সিং আরও জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শিশুটির মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই নৃশংস ঘটনাটি জলন্ধর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।