বিশেষ: পুজোর আগে টাকায় ভরবে পকেট, ভাদ্র মাসে নিয়ম মেনে করুন এই কাজ

বর্ষা শেষ হয়ে প্রকৃতিতে যখন শরতের আগমনী সুর শোনা যায়, ঠিক তখনই হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে শুরু হয় আত্মসংযমের মাস ভাদ্র। এই সময় যেমন বিভিন্ন ব্রত ও পূজা পালিত হয়, তেমনই খাদ্য ও জীবনযাত্রায় কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলার বিধান রয়েছে। আয়ুর্বেদ এবং ধর্মতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নিয়মগুলো শরীর ও মনকে শুদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে।

চতুর্মাসের দ্বিতীয় মাস হলো ভাদ্র, যা অনেকে ‘ভাদো’ নামেও চেনেন। এই মাসটিকে ঐশ্বরিক কৃপায় পরিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে, ‘ভাদ্র’ শব্দের অর্থ যিনি কল্যাণ দান করেন। এই মাসটি মানুষকে উপবাস, ব্রত ও নিয়ম-নিষ্ঠা পালনের মাধ্যমে ভালো ফল লাভের সুযোগ দেয়।

ভগবান গণেশ ও শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ লাভের উপায়

ভাদ্র মাসে ভগবান গণেশের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য তার পূজা করা উচিত। বিশেষ করে, হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি স্থাপন করে প্রতিদিন সকালে তাতে দূর্বা ও মোদক নিবেদন করলে সকল বাধা-বিপত্তি দূর হয়।

অন্যদিকে, শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ পেতে হলে তাকে পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করাতে পারেন। এতে আপনার সব ইচ্ছা পূরণ হবে বলে বিশ্বাস করা হয়। শিশুদের সুখ ও কল্যাণের জন্য কৃষ্ণের জন্মোৎসবে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এই মাসে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করা বিশেষ ফলদায়ক। এছাড়া, বাড়িতে লাড্ডু গোপাল ও শঙ্খ স্থাপন করলে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি আসে।

ভাদ্র মাসের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ও ব্রত

এই মাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপবাস ও উৎসব পালিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গণেশ চতুর্থী ও গণেশ মহোৎসব। এছাড়া, শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম এবং রাধার জন্মবার্ষিকী এই মাসেই অত্যন্ত আনন্দ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়। নারীদের সৌভাগ্য লাভের উৎসব হরিতালিকা তীজ এবং অসীম পুণ্য অর্জনের উৎসব অনন্ত চতুর্দশীও এই মাসে অনুষ্ঠিত হয়।

ভাদ্র মাসের কিছু নিয়ম ও সতর্কতা

ভাদ্র মাসে কিছু নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলার বিধান রয়েছে। এ সময়ে কাঁচা খাবার এবং দই খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত। এছাড়া, এই মাসে রক্তচাপ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া জরুরি। এই মাসে অলসতা দূর করতে সকাল-সন্ধ্যা ঠাণ্ডা জলে স্নান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য তুলসীকে এই মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তুলসী নিবেদন করার পাশাপাশি প্রতিদিন তুলসী চা বা দুধে ফুটিয়ে পান করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে মনে করা হয়।