নন্দীগ্রামে ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-সিপিএমের মধ্যে উত্তেজনা

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে আবারও রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। গুমগড় হাই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তৃণমূল ও সিপিএম সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সিপিএম অভিযোগ করেছে যে, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যদিও শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের দাউদপুর এলাকার গুমগড় হাই মাদ্রাসায়। আগামী ৩১শে আগস্ট এই মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা। সিপিএম সমর্থিত প্রার্থীরা যখন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাচ্ছিলেন, তখন তৃণমূলের কিছু কর্মী-সমর্থক তাদের পথ আটকায় এবং হকি স্টিক দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই হামলায় সিপিএমের নন্দীগ্রাম এরিয়া কমিটির সম্পাদক মহাদেব ভুঁইয়ার হাত ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন সিপিএম কর্মী এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে দল দাবি করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সিপিএম নন্দীগ্রাম থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

মহাদেব ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে মারধর করে হাত ভেঙে দিয়েছে। এই বর্বর আক্রমণের পর আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো নিরাপত্তা পাইনি।” তিনি এই ঘটনার জন্য অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

তবে, নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সিপিএম এখন শূন্য থেকে মহাশূন্যে চলে গেছে। তাদের না আছে সমর্থক, না আছে নির্বাচনে লড়ার মতো প্রার্থী। শুধুমাত্র রাজনীতি করা এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই তারা মিথ্যা অভিযোগ করছে।”

এই ঘটনার পর নন্দীগ্রাম এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।