আদালতে পুলিশের অস্বস্তি, গ্রেফতার হওয়া শিক্ষকের জামিন মঞ্জুর

সোমবার আদালত থেকে জোড়া ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। যাদবপুরের প্রাক্তন ছাত্র হিন্দোল মজুমদারের পর এবার এসএসসি আন্দোলন থেকে মালদার শিক্ষক রেজাউল হককেও জামিন মঞ্জুর করল আদালত। একটি বিস্ফোরক অডিও টেপ প্রকাশ করে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও, আদালতে তাদের ভূমিকা নিয়েই তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

চাকরিহারা শিক্ষকদের একটি দল সোমবার এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল। এই অভিযানের আগেই পুলিশ একটি অডিও টেপ প্রকাশ করে দাবি করে যে, আন্দোলনকারীদের হিংসাত্মক আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই টেপের ভিত্তিতেই মালদার শিক্ষক রেজাউল হককে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু আজ তাকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন বিচারক অর্ঘ্য আচার্য। তিনি পুলিশের কাছে জানতে চান, “কীসের ভিত্তিতে গ্রেফতার করলেন?” পুলিশ যে অডিও টেপটি শুনিয়েছিল, তাতে কার সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে, তাও পুলিশ স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি। এমনকি, মামলার ধারা নিয়েও বিচারক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ফোনে কথোপকথনের সঙ্গে যে ধারাগুলো দিয়েছেন, তার কোনো সামঞ্জস্য নেই। এখানে সেনা বা নৌবাহিনীর ধারা কেন যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে কোনো সেনা বা নৌসেনা মোতায়েনই করা হয়নি?”

পুলিশের শোনানো টেপে কোনও সরকারি কর্মী বা পুলিশকে ভয় দেখানো হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয় বলে বিচারক মন্তব্য করেন। তিনি বিধাননগর পূর্ব থানার ওসিকে বিএনএস (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা)-এর বই দেখতে দেন এবং বলেন, “জানি আপনারা চাপের মধ্যে কাজ করেন, কিন্তু ধারার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।”

বিচারক প্রথমে রেজাউল হককে সাত দিনের পুলিশি হেফাজত দিয়ে তার ভয়েস স্যাম্পেল নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিশ আদালতে জানায়, এই মুহূর্তে তাদের ভয়েস স্যাম্পেল নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর জবাবে বিচারক বলেন, “তাহলে আপনারা এই মুহূর্তে ভয়েস স্যাম্পেল নিচ্ছেন না, এটা আমি উল্লেখ করে রাখছি।” এই পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে এবং আদালতের এই রায় আন্দোলনকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।