মোদির এক ঘোষণাতেই কমে যাচ্ছে গাড়ি-মোবাইল-কম্পিউটারের দাম! কতটা সস্তা হবে? বিস্তারিত জেনেনিন

দেশের 79তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল কেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জিএসটি (GST) ব্যবস্থার একটি ব্যাপক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন, যা আগামী দিনে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে আসবে বলে জানিয়েছেন। মোদী বলেন, “এই দীপাবলিতে, আপনাদের দ্বিগুন-দীপাবলির কাজ করব আমি। এই দীপাবলিতে দেশবাসীকে বড় উপহার মিলবে।”

জিএসটি সংস্কারের মূল দিক
বর্তমানে ভারতে জিএসটির চারটি প্রধান স্তর রয়েছে: ৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮%। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সংস্কারে এই চারটি স্তরের মধ্যে দুটি, বিশেষ করে ১২% এবং ২৮% স্ল্যাব, বাতিল করা হতে পারে।

১২% স্ল্যাব: যে সমস্ত পণ্যের উপর বর্তমানে ১২% জিএসটি আরোপিত, তার প্রায় ৯৯% পণ্যের উপর নতুন নিয়মে ৫% জিএসটি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২৮% স্ল্যাব: একইভাবে, যেসব পণ্যের উপর ২৮% জিএসটি কার্যকর, তার প্রায় ৯০% পণ্যের উপর ১৮% জিএসটি ধার্য হতে পারে।

এই পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন করের বোঝা কমবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এই নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর হবে না। এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোন কোন পণ্যের দাম কমতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জিএসটি সংস্কারের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমতে পারে। সম্ভাব্য তালিকা নিচে দেওয়া হল:

মোবাইল, কম্পিউটার, জুতো, সেরামিক, টাইলস, জ্যামিতি বক্স, এবং রেডি-মিক্স কংক্রিট ও সিমেন্ট-এর মতো পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন টুথপেস্ট, টুথ পাউডার, সাবান এবং তেল-এর দামও কমতে পারে।

২৮% স্ল্যাব বাতিল হলে এসি, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, টিভি, মোটরসাইকেলের সিট এবং গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।

‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’
জিএসটি সংস্কারের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’-র কথাও ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের অধীনে, যারা বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রথম চাকরি শুরু করবেন, সরকার থেকে তাদের ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা এবং যুব সমাজকে আত্মনির্ভর হতে উৎসাহিত করা।