স্বামী ছেড়ে ইরফানের সঙ্গে লিভ-ইন, মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে বাড়ছে রহস্য

উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে এক বিউটিশিয়ানের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। শনিবার গভীর রাতে সদর থানা এলাকার ভগবন্তপুরায় নিজ বাড়িতে ৩৮ বছর বয়সী মীনু প্রজাপতির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও, মীনুর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী ইরফানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মীনুর পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ২০ বছর আগে একটি বিউটি পার্লারে কাজ শেখার সময় ইরফানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১২ সালে মীনুর বিয়ে হলেও মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর থেকে তিনি আলাদা বাড়িতে থাকতে শুরু করেন এবং ইরফানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে তারা দু’জন একসঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।
তবে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। ইরফান বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও মীনুকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর মীনু প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন।
মৃতার ভাই রাকেশ এবং শ্যালক শ্রীরামের দাবি, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। তাদের অভিযোগ, মীনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও তার পা মাটিতে ঠেকে ছিল, যা আত্মহত্যার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক। আরও অভিযোগ, ইরফান পুলিশকে না জানিয়েই দ্রুত দেহ দাহ করার চেষ্টা করছিলেন।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সদর বাজার থানার ইনচার্জ প্রকাশ সিং বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। পরিবার থেকে অভিযোগ আসার পর আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি।”