ফের রাজপাটে বদল বাংলাদেশে? নির্বাচনের আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিলো ইউনূস সরকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের ছবি সরিয়ে নেওয়ার মৌখিক নির্দেশ আসার পর থেকেই জল্পনা বাড়ছে যে, সে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হতে চলেছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যখন মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন এই ধরনের পদক্ষেপকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে মৌখিকভাবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৮০টি বিদেশি দূতাবাসে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আগে তাঁর ছবি সরানো হয় না, তাই এই ঘটনাটি বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রপতিকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদ থেকে সরানো কঠিন, যদি না তিনি গুরুতর অসুস্থ হন অথবা কোনো বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন। তবে রাজনৈতিক কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের নজিরও রয়েছে। মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা। অনেকের মতে, এই নির্দেশ হয়তো নতুন রাষ্ট্রপতির ছবি বসানোর প্রস্তুতির অংশ, যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি।

উল্লেখ্য, মহম্মদ সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের শাসনকালেই রাষ্ট্রপতি পদে এসেছেন। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি সেই দাবিতে সাড়া দিচ্ছে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে শেখ হাসিনার বিদায়ের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য দেশে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।