দীপাবলিতে ‘নয়া GST’ উপহারের ঘোষণা মোদীর, কত কোটি ক্ষতি হতে পারে দেশের GDP-র?

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষকে নতুন এক উপহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেশ পেতে চলেছে ‘নয়া যুগের জিএসটি’। আর সেই উপহার সম্ভবত এই দীপাবলিতেই পেতে চলেছে দেশবাসী। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দীপাবলির আগেই দেশে কার্যকর হতে চলেছে এক নতুন জিএসটি কাঠামো, যা আমজনতার জন্য আনতে চলেছে স্বস্তির বার্তা।
এই নতুন কাঠামোতে বর্তমানে চালু থাকা চারটি স্ল্যাবের পরিবর্তে মাত্র দুটি স্ল্যাব থাকতে পারে: ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। জানা যাচ্ছে, জিএসটি কাউন্সিল নাকি ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই নতুন কাঠামো কার্যকর হলে, বর্তমানে ১২ শতাংশ করের আওতায় থাকা প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যই ৫ শতাংশের স্ল্যাবে নেমে আসবে। এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধুমাত্র ১২ শতাংশের স্ল্যাব নয়, ২৮ শতাংশের আওতায় থাকা বহু জিনিসপত্রের করও কমে ১৮ শতাংশের মধ্যে চলে আসবে। এর ফলে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিলাসবহুল পণ্যের দামও অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, এর প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ।
তবে, অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, করের হার কমলে সরকারের আয় কমে যাবে না তো? অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা নাও হতে পারে। কারণ, বর্তমানে ১৮ শতাংশের স্ল্যাব থেকেই সরকার সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ রাজস্ব পায়। নতুন কাঠামোতে জিনিসপত্রের দাম কমলে মানুষের কেনার প্রবণতা বাড়বে। রেপো রেট কমিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ইতিমধ্যেই মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। তাই, করের পরিমাণ কমলেও কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় সরকারের কর আদায়ে খুব একটা ঘাটতি হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন এই জিএসটি কাঠামো যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আনবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে দীপাবলির আনন্দকে আরও মধুর করে তুলবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে এই সুখবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।