‘আমার সঙ্গে কেন পরামর্শ করেননি?’ সরকারি আধিকারিককে ধমক দিয়ে বিতর্কে তৃণমূল বিধায়ক

সরকারি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বন দফতরের আধিকারিককে ধমক দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর পরামর্শ না নিয়ে কেন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে তিনি বন আধিকারিককে হুঁশিয়ারি দেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুভেন্দু অধিকারী শাসকদলের কড়া সমালোচনা করেন।

ঘটনার বিবরণ:
ঘটনাটি ঘটেছে স্বাধীনতা দিবসে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের হেতেডোবা শিল্প তালুকের পাশে বাঁশগোড়া এলাকায় বনসৃজনের এক অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত এবং দুর্গাপুরের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার অনুপম খাঁ। বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী হঠাৎই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বন আধিকারিককে ধমকাতে শুরু করেন। তিনি বলেন, “আপনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এখানকার বিধায়ক, আপনি আমার সঙ্গে পরামর্শ করবেন না? আপনি যা খুশি করবেন?” তিনি আরও বলেন, “আমাকে ভোটে হারাতে পারবেন না। আমাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি।”

শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য:
এই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শাসকদলকে নিশানা করেন। তিনি তার পোস্টে লেখেন, “তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রীরা মনে করেন যে, সরকারি আধিকারিকদের কোনো মানসম্মান নেই। তাদের যত্রতত্র সর্বসমক্ষে তিরস্কার করা, অপমান করা যেন তৃণমূলীদের জন্মগত অধিকার।” তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল নেতারা সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত চাকর-বাকর ভাবেন।

বিধায়কের সাফাই:
বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি আমার ব্যবহারে কেউ কষ্ট পায়, তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। মানুষের জন্য আমাকে লড়াই করতেই হবে।” তিনি জানান যে আদিবাসীদের জমির মাপজোক না করে এবং তাদের সঙ্গে কথা না বলে বন দফতর যেভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে তিনি কষ্ট পেয়েছেন এবং সে কারণেই তিনি এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তবে বন দফতর জানিয়েছে, তারা তাদের নিজস্ব জমিতেই বনসৃজনের উদ্যোগ নিয়েছিল।

এর আগে গত বছর ৩রা আগস্ট বন দফতরের জায়গা দখলমুক্ত করতে গিয়ে তৎকালীন কারামন্ত্রী অখিল গিরি এক মহিলা বন আধিকারিককে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এবার নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর এই ঘটনায় আবারও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে শাসকদলের নেতাদের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।