‘শপথ দিন নয়তো ক্ষমা চান’- রাহুলকে নির্বাচন কমিশনের ৭ দিনের সময়

‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কঠোর বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাহুলকে সাত দিনের মধ্যে তার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণসহ হলফনামা জমা দিতে অথবা দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। যদি তিনি তা না করেন, তবে তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে গণ্য করা হবে।
কংগ্রেসের পাল্টা আক্রমণ:
কমিশনের এই হুঁশিয়ারির পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, “নির্বাচন কমিশন রাহুল গান্ধীকে হুমকি দিয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা কমিশনের দেওয়া তথ্য থেকেই কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন মাত্র। কমিশনের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অক্ষমতা তো বটেই, এমনকি পক্ষপাতদুষ্টতাও প্রকাশ্যে এসেছে। ভয় না দেখিয়ে, হুমকি না দিয়ে এখন নির্বাচন কমিশনের সঠিক তদন্ত করা উচিত।”
রাহুলের অভিযোগ:
গত ৭ই আগস্ট এক অনলাইন প্রেজেন্টেশনে রাহুল গান্ধী বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্র এবং মহাদেবপুরা বিধানসভার ভোটার তথ্যের বিশ্লেষণ করে ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, মহাদেবপুরা বিধানসভায় ১ লক্ষ ২৫০টি ভোট চুরি হয়েছে। এরপরই কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তারা তাকে হলফনামা পাঠানোর কথা জানিয়ে চিঠি দেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
কমিশনের অবস্থান:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “অভিযোগকারী কোনো হলফনামা দেননি। তাহলে কি নির্বাচন কমিশনের ১.৫ লক্ষ ভোটারকে নোটিশ পাঠানো উচিত হবে? আগামী ৭ দিনের মধ্যে কোনো ঘোষণাপত্র না দিলে দাবিগুলি ভিত্তিহীন ও অবৈধ বলে বিবেচনা করা হবে।”
কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, “শুধু একজন বললেই সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে না। চিরাচরিতভাবে সূর্য পূর্ব দিকেই উদয় হয়।” তিনি বলেন, ভোট চুরির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন বা ভোটার কেউ ভয় পায় না। একই সময়ে বিহারের সাসারামে রাহুল যখন তার ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু করছিলেন, তখনই নির্বাচন কমিশন এই সংবাদ সম্মেলন করে। রাহুল সেখানেও বলেন যে কমিশন তাকে হলফনামা দিতে বললেও বিজেপি নেতাদের একই কথা বলছে না।