কাদামাটির নিচে ৩০ ঘণ্টা জীবিত থাকার পর উদ্ধার! মাচাইল মাতার ভক্তের অলৌকিক প্রত্যাবর্তন

প্রকৃতির ভয়াবহ দুর্যোগে যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই অলৌকিকভাবে জীবন ফিরে পেলেন এক ব্যক্তি। জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চাস-এ মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে ভেসে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩০ ঘণ্টা চাপা পড়ে থাকার পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে সুভাষ চন্দ্রকে। এই ঘটনাকে মাচাইল মাতার আশীর্বাদ বলে মনে করছেন অনেকেই।
নিঃস্বার্থ সেবার পুরস্কার:
সুভাষ চন্দ্র গত কয়েক বছর ধরে মাচাইল মাতার মন্দিরে আসা ভক্তদের জন্য একটি লঙ্গরখানা (বিনামূল্যে খাবার বিতরণের স্থান) চালাচ্ছেন। হড়পা বানের তোড়ে তার সবকিছু ভেসে যায়, এমনকি তিনিও ভেসে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী দল তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে বের করে।
উদ্ধারকারী দল, যার মধ্যে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং সেনার যৌথ দল রয়েছে, জানায় যে এটি তাদের জন্য একটি বিশাল সাফল্য। এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, “উদ্ধারকাজ শুরুর পর এই প্রথম কাউকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এটি ভগবানের আশীর্বাদ ছাড়া আর কিছু নয়।”
ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা:
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ১৬টি বাড়ি, ৩টি মন্দির, ৪টি কারখানা এবং সেনার একটি আউটপোস্ট ভেসে গেছে। ঘটনার তিন দিন পরও উদ্ধারকাজ পুরোদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সুনীল শর্মা বলেন, “ডোগরি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে – ভগবান যাকে রক্ষা করেন, তাকে কেউ হত্যা করতে পারবে না। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভক্তদের নিঃস্বার্থভাবে খাবার জোগান দিয়েছেন সুভাষ। সেই কারণে মাচাইল মাতা তার প্রাণ রক্ষা করেছেন।” তিনি আরও বলেন, সুভাষ আবারও লঙ্গরখানা তৈরি করে ভক্তদের মুখে অন্ন তুলে দেবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, দুর্যোগের সময় প্রায় দেড় হাজার ভক্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং সুভাষের লঙ্গরখানায় ছিলেন ২০০ থেকে ৩০০ জন ভক্ত। এই অলৌকিক ঘটনাটি কেবল একটি জীবন রক্ষা নয়, বরং নিঃস্বার্থ সেবার প্রতিদান হিসেবে এক প্রতীকী উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।