প্রাক্তন বিধায়ক ও এসবিএসটিসি চেয়ারম্যান এখন সবজি বিক্রেতা!

হাটের ভিড়ে আর পাঁচজন সবজি বিক্রেতার মতোই খদ্দেরের অপেক্ষায় বসে আছেন একজন মানুষ। সাধারণ পোশাক, খালি পা। সামনে সাজানো পটল, লঙ্কা, টমেটো আর বাঁধাকপি। তাকে দেখে আলাদা করে চেনার কোনো উপায় নেই। কিন্তু তার পরিচয় জানলে চমকে উঠবেন অনেকেই। তিনি দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এসবিএসটিসি) বর্তমান চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল।

হাটে সবজি বিক্রি:
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বননবগ্রাম হাটে সুভাষ মণ্ডলকে সবজি বিক্রি করতে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। অনেকেই এগিয়ে এসে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দিনের শেষে তার বিক্রি হয় দুই হাজার টাকার সবজি। এক সময়ের বিধায়ক এবং বর্তমানে একটি সরকারি সংস্থার প্রধানকে এভাবে সবজি বিক্রি করতে দেখে সবাই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন।

কেন এই উদ্যোগ?
তবে সুভাষ মণ্ডল এই বিষয়ে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখতে পান না। তিনি বলেন, “আমাদের পারিবারিক কৃষিজমি রয়েছে। চাষের সময় আমি মাথায় গামছা বেঁধে কৃষি শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে নামি। এতে তারাও বাড়তি উৎসাহ পান।” তিনি জানান, কম খরচে বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে তারা জমিতে সবজি চাষ করেন এবং সেই উৎপাদিত ফসল নিয়েই তিনি হাটে বসেছিলেন।

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন:
সুভাষ মণ্ডল বলেন, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর কৃষি ও কৃষকদের অনেক উন্নতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প চালু করেছেন এবং সহায়ক মূল্যে ধান কেনার ওপর জোর দিয়েছেন, যার সুবিধা রাজ্যের কৃষকরা পাচ্ছেন। ফলে অভাবী বিক্রি বন্ধ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজ্য সরকার এ বছরও কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনেছে এবং ‘সুফল বাংলা’র স্টলে ন্যায্য মূল্যে কৃষিজাত সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, “সব মিলিয়ে এ রাজ্যে কৃষি একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। সে কারণেই আমি অন্য কৃষকদের মতো চাষ করার ব্যাপারে বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছি।”