‘আলোচনার মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা’-বিরোধীদেড় অভিযোগ খারিজ EC-র

দেশের ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে যে, ভুয়া ভোটার যুক্ত করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) শনিবার কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়েছে, যেখানে তারা বলেছে যে অভিযোগ করার নির্দিষ্ট সময় ছিল এবং এখন আওয়াজ তোলা অর্থহীন।
নির্বাচন কমিশন তাদের ১০ দফা বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, ভোটার তালিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছ এবং বহুস্তরীয়। খসড়া তালিকা ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল—দুই রূপেই রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং কমিশনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছিল। কমিশন দাবি করেছে, যদি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো আপত্তি জানানো হতো, তাহলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসার ভুলগুলো সংশোধন করতে পারতেন।
কমিশন আরও অভিযোগ করেছে যে, খসড়া তালিকা পর্যালোচনার সময় রাজনৈতিক দল ও তাদের বুথ স্তরের এজেন্টরা কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তারা সময় মতো কোনো আপত্তি না জানিয়ে এখন অভিযোগ করছেন, যা কেবল বিভ্রান্তি ছড়ানোর সমান। কমিশনের মতে, প্রতিটি পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলির অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল, তাই এখন এই ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ভোটার তালিকায় বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ ও কর্ণাটকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ভুয়া ভোটার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রে এক লাখেরও বেশি ভুয়া ভোটার থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রাহুল গান্ধীর মতে, এই আসনেই বিজেপি ৩২ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছে, যা এই অনিয়মের প্রমাণ।
ভোটার তালিকা নিয়ে এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে কমিশন নিজেদের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা শাসকদলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য অনিয়মের অভিযোগ তুলছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এই ভোটার তালিকা বিতর্ক এখন দেশের রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।