AI-চশমা দেবে ‘সুপারহিউম্যান হিয়ারিং’ সুবিধা, বলছে গবেষকরা

বিজ্ঞানীরা এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্মার্ট চশমা তৈরি করেছেন যা ব্যবহারকারীকে ‘অতিমানবীয় শ্রবণশক্তির’ সুযোগ দেবে। এই চশমাটিতে থাকা ক্যামেরা ঠোঁটের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে সেটিকে কথায় রূপান্তর করতে পারে এবং এর সাহায্যে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে শব্দ আরও পরিষ্কারভাবে শোনা যায়। বিশেষ করে যারা শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন।
স্কটল্যান্ডের হেরিয়ট-ওয়াট, এডিনবার্গ, নেপিয়ার এবং স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল এই স্মার্ট চশমাটি তৈরি করেছে। এটি প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের শব্দের নমুনা ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন— ওয়াশিং মেশিনের শব্দ, যানবাহনের শব্দ ইত্যাদি।
হেরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাথিনি সেলাথুরাই জানান, “আমরা প্রচলিত হিয়ারিং এইডকে নতুন করে তৈরি করতে চাই না, বরং আমরা মানুষকে এক ধরনের সুপারপাওয়ার দিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “চশমাটি এমনভাবে কাজ করে যে আপনি যার কথা শুনতে চান তার দিকে তাকালেই এআই ভিজ্যুয়াল সংকেত ব্যবহার করে শুধু সেই ব্যক্তির কণ্ঠ আলাদা করে শোনাবে, এমনকি যদি একসঙ্গে দুজন কথা বলেন তবুও।”
এই এআই চালিত স্মার্ট চশমাটি ব্যবহারের জন্য প্রচুর কম্পিউটার প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন হয়, যার জন্য শব্দের তথ্য সুইডেনের সার্ভারে পাঠানো হয়। তবে গবেষকদের দাবি, উচ্চ-গতির ব্রডব্যান্ড বা ফাইভজি সংযোগ ব্যবহার করলে এটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করে।
এই প্রযুক্তিটি কেবল হিয়ারিং এইড ব্যবহারকারী বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্যই নয়, বরং তেল উত্তোলন যন্ত্রের মতো শিল্প কারখানা বা জনাকীর্ণ স্থানের মতো কোলাহলপূর্ণ পরিবেশেও এটি ব্যবহার করা যাবে। অধ্যাপক সেলাথুরাই বলেন, “বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি বড় কোম্পানি হিয়ারিং এইড তৈরি করে, কিন্তু সেগুলোর কার্যকারিতা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কম। আমরা এই সীমাবদ্ধতা ভেঙে দিতে চাই এবং সাশ্রয়ী দামে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের এআই চালিত শ্রবণ সহায়তা দিতে চাই।”
গবেষকরা ইতিমধ্যেই হিয়ারিং এইড নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এই স্মার্ট চশমা বাজারে আনার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া, এই প্রযুক্তিটিকে একটি ক্লাউড-ভিত্তিক মডেল হিসেবেও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে যে কেউ উপযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করে এর সুবিধা নিতে পারেন।