দশকর্মার দোকানের আড়ালে বেআইনি বাজির কারবার, গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা

দশকর্মার দোকানের আড়ালে বাজি তৈরির সরঞ্জাম মজুত রাখার অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত সুবীর মাইতি এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সুবীর মাইতির দোকানটি ভূপতিনগরের অর্জুননগরের কমনানবাড় এলাকায় অবস্থিত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভূপতিনগর থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। তল্লাশিতে দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ বাজি তৈরির মশলা ও সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি, প্রায় ৬০ কেজি বাজি তৈরির মশলা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজি তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এর সঙ্গে ২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বরের নাড়ুয়াবিলা বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে, ধৃত সুবীর মাইতির নাম ওই বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে NIA-এর তালিকায় ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনায় তিন তৃণমূল নেতা মারা গিয়েছিলেন এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে NIA তদন্ত শুরু করেছিল।
এই গ্রেফতারি নিয়ে রাজনীতিও শুরু হয়েছে। ভগবানপুরের বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি অভিযোগ করেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য তৃণমূল এখন থেকেই বোমা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রেফতারের পর তৃণমূলের কর্মীরা তাকে ছাড়ানোর জন্য থানায় হাজির হয়েছে।”
অন্যদিকে, কাঁথি সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অপরেশ সাঁতরা বিষয়টি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই।”
এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা দাবি করে, এটি শুধু বাজি নয়, এর আড়ালে বোমা তৈরির কাজ চলছিল। তবে পুলিশ এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে। এই ঘটনার জেরে রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ধৃত সুবীর মাইতিকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।