‘শিক্ষীত আলুভাজা’র আড়ালে এক শিক্ষিত যুবকের বেকারত্বের নীরব প্রতিবাদ

চাকরি না পেয়ে অবশেষে আলু ভাজার দোকান খুলেছেন এক এমএ পাশ যুবক। কিন্তু দোকানের নামের বানান ভুল দেখে সবাই অবাক। ‘শিক্ষীত আলুভাজা’ – এই নামটি আসলে এক শিক্ষিত যুবকের কঠিন লড়াই এবং বেকারত্বের প্রতি এক নীরব প্রতিবাদ।
রূপায়ণ বিশ্বাস, নদিয়া জেলার রানাঘাটের বাসিন্দা, বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। এছাড়াও তার আরও কিছু ডিগ্রি রয়েছে এবং তিনি টেট পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু এত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তার সরকারি চাকরির স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। রূপায়ণ জানান, তার চেয়ে কম র্যাঙ্কের অনেকে চাকরি পেলেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।
বারবার ব্যর্থতার পর হাল ছাড়েননি রূপায়ণ। প্রথমে বাবার মুদিখানার দোকান সামলাতেন, কিন্তু সেখানে চুরি হয়। এরপর একটি ছোট মোবাইলের দোকান খুললেও সেখানেও একই ঘটনা ঘটে। জীবনযুদ্ধে বারবার ধাক্কা খেয়ে অবশেষে তিনি স্পাইরাল আলু ভাজার দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন। দোকানের নাম দেন ‘শিক্ষীত বেকারের শিক্ষীত আলুভাজা’।
দোকানের নামের বানানে ‘শিক্ষীত’ শব্দটি ভুল। রূপায়ণ বলেন, এই ভুল বানানটি একাধারে তার শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ার ক্ষোভের প্রতিফলন, এবং একই সাথে এটি একটি নেতিবাচক প্রচারণার কৌশল, যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার কথায়, “আমি দেখতে পাচ্ছি অনেক লোক ভুল করে বা অন্যায় করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাহলে আমি যদি সামান্য একটা বানান ভুল করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যবসা বাড়াতে পারি তাহলে দোষ কোথায়?”
রূপায়ণের এই উদ্যোগ শুধু একটি ব্যবসার গল্প নয়, এটি হাজার হাজার শিক্ষিত বেকারের মনের কথা। যারা চাকরি না পেয়েও হাল ছাড়েননি, বরং নতুন করে নিজেদের পথ তৈরি করে নিয়েছেন। তার এই লড়াই হয়তো আগামী দিনে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।