পাকিস্তানে প্রবল বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩২১, দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত

পাকিস্তানে ভারী ও অতিভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। উত্তর পাকিস্তানের প্রশাসন জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে অন্তত ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর এবং সরকারি কার্যালয় জলের নিচে চলে গেছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই পাহাড়ি প্রদেশেই মৃতের সংখ্যা ৩০৭ জন, যার মধ্যে ১৫ জন মহিলা এবং ১৩ জন শিশুও রয়েছে। বন্যার কারণে বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রদেশের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি জেলায় প্রায় ২ হাজার উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ত্রাণসামগ্রী এবং ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। তিনি জানান, বহু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধারকর্মীদের পায়ে হেঁটে ত্রাণ পৌঁছাতে হচ্ছে।
ফাইজি আরও বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জনদের দেহ চাপা পড়ে থাকায় অনেকেই এলাকা ছেড়ে যেতে চাইছেন না, যার কারণে উদ্ধারকাজে বিলম্ব হচ্ছে।” প্রশাসনের দাবি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুনের, বাজাউর, সোয়াত, শাংলা, মানসেহরা এবং বট্টগ্রাম।
এদিকে, উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একাধিক এলাকায় আগামী কয়েক ঘণ্টার জন্য আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দফতর। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুধুমাত্র পাহাড়ি এলাকা নয়, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং উত্তর গিলগিট-বালতিস্তানেও যথাক্রমে ৯ এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, খারাপ আবহাওয়ায় ত্রাণকাজ চালানোর সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে।