স্ত্রীকে খুন করে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, নেপথ্যে স্বামী-স্ত্রীর কলহ?

স্ত্রীকে খুন করে এক বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামীর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে জামুরিয়ার হিজলগড়া গ্রামে, যা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘরের দরজা ভেঙে ২৩ বছর বয়সী রেনুকা দাস পাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে। অভিযুক্ত স্বামী বৈদ্যনাথ পাত্র পলাতক রয়েছেন এবং তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যনাথ পাত্রের বাড়ি জামুরিয়ার হিজলগড়া গ্রামে। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা রেনুকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরিবারের অমতে তাদের বিয়ে হয়। এক বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে এই দম্পতির। বৈদ্যনাথ একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানায় কাজ করতেন এবং হিজলগড়া গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।
প্রতিবেশীরা জানান যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বাড়ির মালিক তন্ময় মণ্ডল পুলিশকে জানান, বৈদ্যনাথ নিয়মিত তার দোকান থেকে জিনিসপত্র নিতেন এবং প্রতি মাসের ১৫ তারিখ বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতেন। শুক্রবারও তিনি ছেলেকে নিয়ে টাকা দিতে এসেছিলেন, কিন্তু স্ত্রী রেনুকার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান যে রেনুকা তার বাপের বাড়ি চলে গেছেন।
বৈদ্যনাথের কথায় সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির মালিক কেন্দা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন। এরপর রাতে পুলিশ এসে বাড়ির তালা ভেঙে রেনুকার মরদেহ উদ্ধার করে, যা একটি কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। এরপর একাধিকবার বৈদ্যনাথের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং বৈদ্যনাথকে খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে রেনুকাকে খুন করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।