‘ভয় পাচ্ছে শাসকদল’, ‘বেঙ্গল ফাইলসের’ ট্রেলার বিতর্কে তোপ BJP-র, পাল্টা জবাব দিতে ছাড়ল না তৃণমূল

বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত বিতর্কিত সিনেমা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর ট্রেলার লঞ্চ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বাইপাসের ধারে একটি বিলাসবহুল হোটেলে এই অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ করেই তাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিচালক নিজে এই ঘটনার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন এবং এর প্রতিবাদে বিজেপি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “ভারতবর্ষের গণতন্ত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অন্যতম স্তম্ভ। পশ্চিমবঙ্গে একটি সিনেমা কেন করা যাবে না? কেন একটি ট্রেলার দেখানো যাবে না? আজ সেই ১৬ই আগস্ট, ১৯৪৬ সালে যেদিন সুরাবর্দি ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ডাক দিয়েছিলেন এবং ৪০ হাজার হিন্দু বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই সত্যের ওপর তৈরি করা এই ছবি যদি আজকে দেখানো হয়, তাহলে তাতে কেন ভয় পাচ্ছে এই রাজ্যের শাসকদল?” তিনি আরও বলেন, এই ভয় তাদের পরাজয়ের ভয়।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “উনি প্রতিটা সিনেমার সময় এই সস্তার নাটক করেন। ওনার সিনেমা তো এমনিতে লোকে দেখে না। তাই এসব ফুটেজ খেয়ে সিনেমা হিট করানোর চেষ্টা করেন। এটা কমন স্ট্র্যাটেজি। সম্ভবত উনি যে পাঁচতারা হোটেল বুক করেছিলেন, সেখানে পেমেন্ট নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে। ফুল পেমেন্ট পায়নি বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ বোধহয় বারণ করেছে।”
তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষও পরিচালকের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, “বেঙ্গল ফাইলসে সম্পূর্ণভাবে ইতিহাস বিকৃত করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বাংলার মানুষ এই সিনেমাকে এখানে চলতে দেবে না। আগামী দিনে আরও বিক্ষোভ হবে।” তিনি আরও বলেন, “এটা বাংলার মাটি, প্রগতিশীলতার মাটি। এটা বাঙালি অস্মিতাকে ধাক্কা দিচ্ছে এবং বাংলায় সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছে। যেখানে সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেনের মতো পরিচালকের সিনেমা চলে, সেখানে এই ধরনের প্রোপাগান্ডা সিনেমা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।”
ইতিমধ্যে পরিচালকের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।