সুন্দরবনে ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের’ মৃত্যু, বাঘের মৃত্যুতে শোকে এলাকাবাসী, বনদফতরের তৎপরতা!

স্বাধীনতা দিবসের পরদিনই সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বনি ক্যাম্প সংলগ্ন জঙ্গল থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে বনদফতরের কর্মীরা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে।
বনদফতর সূত্রে খবর, গতকাল (১৫ আগস্ট) বিকেলে বনি ক্যাম্পের জঙ্গল থেকে বাঘটির দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বার্ধক্যজনিত কারণেই বাঘটির মৃত্যু হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভাগীয় বনাধিকারিক (ডিএফও) নিশা গোস্বামী বলেন, “শুক্রবার বনি ক্যাম্প লাগোয়া জঙ্গল থেকে একটি বাঘের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
বনদফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্যে বাঘের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৫০টি বলে অনুমান করা হয়। এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং তার জীববৈচিত্র্য সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বনি ক্যাম্প, যা সুন্দরবনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, সেখানে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যটকদের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এই এলাকায় বাঘের জন্য মিষ্টি জলের পুকুর তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রায়শই বাঘদের জল পান করতে দেখা যায়।
একসময় সুন্দরবনে বাঘ-মানুষের সংঘাত ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু ১৯৭৩ সাল থেকে ব্যাঘ্র প্রকল্পের মাধ্যমে বাঘ সংরক্ষণ ও তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে। বনদফতরের এই উদ্যোগের ফলে এখন সুন্দরবনে বাঘ-মানুষের সহাবস্থান অনেকটাই সম্ভব হয়েছে।