১৫১ বার বিয়ে করেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘বিয়েবাজ’! প্রতিবার ফুলশয্যার রাতেই যা করেন, শুনলে চমকে উঠবেন

প্রেম, বিয়ে এবং সংসারের মতো পবিত্র সম্পর্ককে নিছক ব্যবসার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতারকের শিরোপা লাভ করেছেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জিয়োভানি উইপিয়োটো। প্রশাসন যেখানে ৮২টি বিয়ের প্রমাণ পেয়েছে, সেখানে জিয়োভানি নিজে দাবি করেছেন যে তিনি মোট ১৫১ জন মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ এবং মূল্যবান সামগ্রী লুট করা।
জিয়োভানির প্রতারণার পদ্ধতি ছিল বেশ সরল। তিনি নিজেকে একজন বিদেশি ব্যবসায়ী, ধনী জমিদার বা অভিজাত পরিবারের রোমান্টিক পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিতেন। মিষ্টি কথায় এবং আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে তিনি মহিলাদের মন জয় করে দ্রুত বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের এক-দুদিন পরই তিনি তার আসল রূপ প্রকাশ করতেন। ফুলশয্যার পর স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে তিনি গহনা, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যেতেন। চুরি করা এই জিনিসগুলো তিনি তার আসল ব্যবসা, ফ্লি মার্কেটে বিক্রি করতেন।
তার প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন প্যাট্রিসিয়া অ্যান গার্ডিনার এবং শ্যারন ক্লার্কের মতো আরও অনেক মহিলা। প্যাট্রিসিয়াকে বিয়ে করে তিনি ৩৬,০০০ ডলার নগদ এবং বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী চুরি করেন। শ্যারনকে একা হোটেলে ফেলে রেখে তার জুতো পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে যান। কিন্তু শ্যারন তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। শ্যারন ক্লার্ক ১০,০০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ফ্লোরিডায় তাকে খুঁজে বের করেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন।
১৯৮৩ সালে আমেরিকার অ্যারিজোনায় জিয়োভানির বিচার শুরু হয়। আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং বহুবিবাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাকে ২৮ বছরের কারাদণ্ড, আরও ৬ বছরের কারাবাস এবং ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ডলারের জরিমানা করা হয়। সাজা ঘোষণার পরেও তিনি অহংকারের সঙ্গে দাবি করেন যে তিনি ১০২ জন নয়, ১৫১ জন মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে ভোগার কারণে ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ৬১ বছর বয়সে কারাগারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। জীবনের শেষ দিনগুলো তাকে নিঃসঙ্গভাবে কারাগারের চার দেওয়ালে কাটাতে হয়েছে। শতাধিক মহিলার বিশ্বাস ভেঙে এবং তাদের সম্পদ লুঠ করে গড়ে তোলা তার সাম্রাজ্যের শেষ পরিণতি হয় নিঃসঙ্গতা এবং মৃত্যুর মাধ্যমে।