ট্রাম্পের ৫০ % ট্যারিফ থেকে ভারতের স্বস্তি? পুতিনের সঙ্গে মিটিং সেরে কী বললেন USA প্রেসিডেন্ট?

আলাস্কায় বহু প্রতীক্ষিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক শেষ হয়েছে। যদিও এই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি, তবুও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনাকে তারা ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। এই বৈঠকের পর ভারতের জন্য একটি স্বস্তির খবর এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন যে, যারা রাশিয়া থেকে তেল কিনছে, তাদের উপর আপাতত নতুন করে কোনো শুল্ক চাপানো হবে না।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত: ফক্স নিউজ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আজকের বৈঠকের পর ট্যারিফ নিয়ে এই মুহূর্তে আর ভাবার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। দুই-তিন সপ্তাহ পর আবার এই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করব। এখন আর বেশি কিছু ভাবছি না।”

এর আগে ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “ভারতের উপর শুল্ক চাপানো কাজে দিয়েছে। এর একটি প্রভাব আছে। এই শুল্কের কারণেই সম্ভবত পুতিন বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন। যখন কেউ নিজের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতাকে হারাতে বসে, তখন সবচেয়ে বড় ক্রেতাকেও হারানোর সম্ভাবনা থাকে।”

প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ২৫ শতাংশের অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা মোট ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে, তাহলে ভারতও লাভবান হবে, কারণ তখন তেলের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হবে না।

ভারতের ওপর চাপ: আমেরিকার যুক্তি হলো, ভারতসহ অন্যান্য বড় দেশগুলো যদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, তাহলে মস্কোর রাজস্ব কমবে এবং তাদের পক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। এর ফলে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে তারা বাধ্য হবে। এই পরিস্থিতিতে ভারত একটি জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যে পড়েছিল। মোদি সরকারকে রাশিয়া এবং আমেরিকা, উভয়ের সঙ্গেই ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছিল।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইঙ্গিতে আপাতত সেই ভারসাম্য নষ্ট হবে না বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহল। দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভারতের ওপর কোনো নতুন শুল্ক চাপানো হবে না, যা আপাতত কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।