পুজোর আগে ম্লান ঐতিহ্যের তাঁত! যন্ত্রের দাপটে থমকে মেশিনের চাকা! ‘সুদিন’ ফিরবে কবে? আশায় পটাশপুরের তাঁতশিল্পীরা

একটা সময় ছিল, যখন দুর্গাপূজার আগমনী সুর কেবল ঢাকের আওয়াজে নয়, গ্রামবাংলার তাঁতিপাড়ায় তাঁতের টুংটাং শব্দেও শোনা যেত। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের চন্দনপুর গ্রামে, পুজোর ঠিক আগে তাঁতশিল্পীদের ঘরে থাকত উৎসবের আমেজ। হাতে বোনা শাড়ির গায়ে লাল-সবুজ নকশা যেন শিল্পীর ভালোবাসা ও পরিশ্রমের গল্প বলত। কিন্তু আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই ঐতিহ্য আজ অনেকটাই ম্লান। সস্তা ও দ্রুত তৈরি মেশিনের কাপড়ের দাপটে হাতে বোনা তাঁতশিল্প ধীরে ধীরে তার জৌলুস হারাচ্ছে।

পটাশপুরের তাঁতশিল্পী লক্ষ্মীপ্রিয়া মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, “আগে পুজোর সময় দিনরাত তাঁত বুনতাম, চাহিদা ছিল অনেক। তখন ঘরে পুজোর আনন্দ থাকত, নতুন জামা আসত। এখন আর সেই সময় নেই। বরাত কমেছে, কাঁচামালের দামও হু হু করে বাড়ছে। একটি শাড়ি বানাতে যে খরচ হয়, বিক্রি করে তাও ওঠে না। তবু এই তাঁত ছাড়তে পারি না, কারণ এই তাঁতই আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন।”

শুধু চাহিদা কমা নয়, কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দামও এই শিল্পের জন্য বড় সমস্যা। সুতো, রঙ, নকশার উপকরণের দাম বাড়লেও বাজারে বিক্রি করার সময় শিল্পীরা সেই খরচ তুলতে পারেন না। ফলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় মূলধনও ফেরত আসে না। এই কারণে পুজোর আনন্দ এখন আর তাঁতশিল্পী পরিবারগুলোতে আগের মতো নেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা করা হয়, তবে এই শিল্প আবার তার সুদিন ফিরে পেতে পারে। কারণ, তাঁতশিল্প কেবল একটি ব্যবসা নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব শুধু শিল্পীদের নয়, বরং আমাদের সকলের।