আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মামলা, আমেরিকায় গিয়ে কি গ্রেপ্তার হবেন পুতিন?

বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আজ আলাস্কায় যাচ্ছেন। তার এই সফর ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার উদ্দেশ্যে। সেখানে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। তবে এই সফরের আগে আন্তর্জাতিক মহলে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে: হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কি পুতিনকে গ্রেপ্তার করবে? বিবিসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক।
আইসিসির পরোয়ানা এবং তার প্রভাব
২০২৩ সালের মার্চে আইসিসি ইউক্রেনের শিশুদের জোরপূর্বক রাশিয়ায় স্থানান্তরের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেসামরিকদের জোরপূর্বক স্থানান্তর একটি যুদ্ধাপরাধ। এই পরোয়ানার কারণে পুতিনের আন্তর্জাতিক চলাফেরার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল করতে হয় এবং তিনি আইসিসির সদস্য দেশগুলোতে সফর করা এড়িয়ে চলছেন।
কেন যুক্তরাষ্ট্র পুতিনকে গ্রেপ্তার করবে না?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। আইসিসি সৃষ্টি হয়েছিল ‘রোম চুক্তি’র মাধ্যমে। ২০০০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও, মার্কিন সিনেট কখনোই এটিকে অনুমোদন দেয়নি।
এরপর ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এই আদালতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি যুক্তি দেন, আইসিসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আইসিসির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন, বিশেষ করে যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়, তাই এই আদালতের কোনো পরোয়ানা তাদের দেশে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব আইন অনুযায়ী চলে, এবং এই ক্ষেত্রে আইসিসির নির্দেশ মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
আইসিসির সীমাবদ্ধতা
আইসিসি মূলত সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। তাদের নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী বা ক্ষমতা নেই কাউকে গ্রেপ্তার করার। কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে হেগে নিয়ে যেতে হলে সেই দেশের সরকারকে উদ্যোগ নিতে হয়। এই নির্ভরতার কারণে আইসিসির পরোয়ানা অনেক সময় কার্যকর হয় না। যেমন, ২০২৩ সালের আগস্টে পুতিন মঙ্গোলিয়া সফর করেছিলেন, যা আইসিসির একটি সদস্য দেশ। কিন্তু মঙ্গোলিয়া তাকে গ্রেপ্তার করেনি এবং এর জন্য তাদের কোনো পরিণতি ভোগ করতে হয়নি।
সুতরাং, সমস্ত আইনি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র পুতিনকে গ্রেপ্তার করবে না। তার এই সফর মূলত একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যা দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতাকে আরও একবার তুলে ধরছে।