সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে কর বৃদ্ধি, নেশা ছাড়ানোর নতুন কৌশল

নেশার অভ্যাস কমাতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ কর চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এসব পণ্যের দাম অনেকটাই বেড়ে যাবে, যা ধূমপায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে। আশা করা হচ্ছে, এই উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে।

জিএসটি কাঠামোর পরিবর্তন

শুধু সিগারেট নয়, পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতদিন ১২ শতাংশ করের আওতায় থাকা পণ্যগুলোতে পরিবর্তন আসছে। যেসব পণ্যে ১২ শতাংশের কম কর ছিল, সেগুলোতে এবার থেকে ৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হতে পারে। অন্যদিকে, এতদিন ২৮ শতাংশ করের আওতায় থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যের উপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন জিএসটি কাঠামো দেশের আর্থিক উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। এতদিন যে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল, নতুন কাঠামোয় তা অনেকটাই কমে আসবে। ১২ ও ২৮ শতাংশ করের বদলে নতুন কর কাঠামো চালু করা হলে রাজস্ব সংগ্রহে স্থিতিশীলতা আসবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং একই সাথে বিলাসিতা ও স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যে কর বাড়ানো হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে। এই পদক্ষেপগুলো অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং জনস্বাস্থ্যের দিকে একইসাথে নজর দিয়েছে।