পুরীর হোটেলে বাঙালি গৃহবধূ ও প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

পুরীর একটি হোটেল থেকে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার এক গৃহবধূ এবং তার প্রেমিকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনা আত্মহত্যা না অন্য কিছু, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। মৃত গৃহবধূর নাম মিতালি ঘোষ (৩২) এবং তার প্রেমিকের নাম কুমারীশ ঘোষ।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৭ দিন আগে মিতালি বাবার বাড়ি যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার পুরীর একটি হোটেলে এই দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। রায়না থানার হরিহরপুত্র গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত ঘোষের সঙ্গে ১০ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল মিতালির। তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

মিতালির স্বামী প্রশান্ত ঘোষ জানান, প্রায় দু’বছর আগে তার স্ত্রী পাশের গ্রামের কুমারীশ ঘোষের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রশান্ত প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন এবং পরে মিতালিকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় যে কুমারীশ তাকে বিরক্ত করে। প্রশান্ত তখন মিতালির বাপের বাড়িতে এবং কুমারীশের বাড়িতেও এই বিষয়ে জানান। তখন বিষয়টি মিটে গেলেও, সম্প্রতি তাদের মধ্যে আবার যোগাযোগ শুরু হয়। প্রশান্ত কিছু দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে মিতালি ও কুমারীশের একটি ছবি দেখতে পান, যা পরে মিতালি ফোন থেকে মুছে দেয়।

মিতালি ৭ দিন আগে তার মোবাইল ফোন আনতে সোনামুখী যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। এরপর তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা সোনামুখী গিয়ে জানতে পারেন যে মিতালি সেখানে যাননি। এরপর তারা রায়না থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। মিতালির ভাই বৃন্দাবন ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে, তারা পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে মিতালি পুরীর একটি হোটেলে থাকতে পারে, কিন্তু পুলিশ তৎপর হলে তার বোনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেত।

বৃহস্পতিবার প্রশান্ত ঘোষের মোবাইলে ওড়িশা পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন আসে এবং জানানো হয় যে, তার স্ত্রী মিতালির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রশান্তবাবু আরও জানান যে, সোনামুখী যাওয়ার নাম করে মিতালি নগদ টাকা এবং কিছু সোনার গয়নাও নিয়ে পালিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।