পথকুকুরদের জন্য নিরাপদ খাবার, কলকাতায় ‘না-মানুষের ক্যান্টিন’ উদ্যোগ

দিল্লিতে পথকুকুর অপসারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কলকাতা পুরসভা এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শহরের পথকুকুরদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল খাবারের ব্যবস্থা করতে তারা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৪৮৭টি রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে পথকুকুরদের খাবার দেওয়া হবে। এই ‘না-মানুষের ক্যান্টিন’ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, একদিকে যেমন কুকুরদের খাবারের অভাব দূর করা, তেমনি অন্যদিকে মানুষ ও প্রাণীদের মধ্যে সংঘাত কমানো।
পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা ড. রনিতা সেনগুপ্ত জানান, পাঁচ বছর আগে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী শহরে পথকুকুরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার। তবে এখন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মতে এই সংখ্যা তিন লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এত বিশাল সংখ্যক প্রাণীর খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন, তবে পুরসভা ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পরিকল্পনার নিয়মাবলী
এই উদ্যোগের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) তৈরি করা হবে, যেখানে বেশ কিছু নিয়ম থাকবে। যেমন:
সকাল ৭টার আগে এবং রাত ৭টার পর নির্দিষ্ট স্থানে খাবার দেওয়া যাবে।
খাবার দেওয়ার পর স্থানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বাধ্যতামূলক।
এক এলাকার কুকুরকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া যাবে না, কারণ এতে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে।
এই স্থানগুলো চিহ্নিত করার জন্য পুরসভা স্থানীয় কাউন্সিলর, পশুপ্রেমী এবং বেলগাছিয়া প্রাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেবে। ভবিষ্যতে আরও গলি ও এলাকা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বীজকরণ এবং নিরাপত্তা
পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নির্বীজকরণ অত্যন্ত জরুরি। গত কয়েক বছরে এই কাজে গাফিলতি দেখা গেছে, তাই এখন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে কতগুলো নির্বীজকরণ করা হচ্ছে, তার মাসিক তথ্য সরাসরি পুরসভা স্বাস্থ্য ভবনে পাঠাতে বলা হয়েছে। পুরসভা আশা করছে, নির্বীজকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিয়মিতভাবে চললে পথকুকুরের সংখ্যা কমবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
এছাড়া, যদি কেউ পথকুকুর হত্যা বা নির্যাতনের ঘটনা দেখেন, তবে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পশুপ্রেমীরা আশা করছেন যে এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শুধু কুকুর নয়, বরং শহরের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সহাবস্থান আরও দৃঢ় হবে। দেশের অন্যান্য শহরে যখন এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন কলকাতার এই উদ্যোগ মানবিকতার এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।