চাকরিহারা শিক্ষকের মৃত্যুতে রণক্ষেত্র আর এন টেগোর হাসপাতাল, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সহযোদ্ধারা

চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেনের (৩৫) মৃত্যুতে শুক্রবার আর এন টেগোর হাসপাতালের সামনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তার সহযোদ্ধা চাকরিহারা শিক্ষকরা হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখান এবং মৃতদেহ নিয়ে যেতে বাধা দেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ‘চোরের মতো’ দেহটি লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সুবল সোরেন দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারানোর মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

মুকুন্দপুর আর এন টেগোর হাসপাতালের ৪ নম্বর এক্সিট গেটের বাইরে সকাল থেকেই চাকরিহারা শিক্ষকরা সুবলকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কোনো খবর না দিয়ে শববাহী গাড়িতে মৃতদেহ তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। এক চাকরিহারা শিক্ষক জানান, “আমরা সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু পুলিশ আর জি কর কাণ্ডের মতো চোরের কায়দায় আমাদের এক যোগ্য শিক্ষকের মৃতদেহ নিয়ে চলে যাচ্ছিল।”

এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা সিগন্যালের কাছে শববাহী গাড়িটিকে আটকে দেন এবং বেশ কয়েকজন রাস্তার উপর শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা ‘সুবল হত্যার বিচার চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর তারা গাড়িটিকে ঘিরে মিছিল করে মুকুন্দপুরের মূল রাস্তা ধরে বাইপাসের দিকে এগিয়ে যান। এই ঘটনায় এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। চাকরিহারা শিক্ষকরা এই মৃত্যুর জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।