চাকরিচ্যুতির চাপে শিক্ষকের মৃত্যু, শোকস্তব্ধ আন্দোলনকারী শিক্ষকরা

২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত ‘যোগ্য শিক্ষক’ সুবল সোরেন (৩৫) আজ, শুক্রবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি ছিলেন চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের আন্দোলনের অন্যতম মুখ। তার মৃত্যুতে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে গভীর শোক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা সুবল সোরেন গত ১১ই অগাস্ট তার ভাড়া বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এত বেশি ছিল যে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে তিনি কয়েকদিন ভেন্টিলেশনে ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে ২৬,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়, সেই তালিকায় সুবল সোরেনের নামও ছিল। সাত বছর ধরে শিক্ষকতা করার পর তাকে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে, এই মানসিক চাপ তিনি নিতে পারছিলেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এই চাপই তার ব্রেন স্ট্রোকের কারণ।
সুবলের পরিবারের সদস্য এবং তার সহযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন যে, এই ‘পচা-গলা সমাজ ব্যবস্থা’ একজন শিক্ষককেও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দিল না। তারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পুনরায় আবেদন জানিয়েছেন যেন যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সসম্মানে তাদের প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং চাকরিহারাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।