স্বাধীনতার মঞ্চে ‘বন্দে মাতরম’ বলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন শওকত মোল্লা

৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মঞ্চে তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার একটি স্লোগান ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ১ নম্বর ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলনের পর বক্তৃতা দিতে এসে শওকত মোল্লা ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু:
‘বন্দে মাতরম’ একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ ভারত মায়ের বন্দনা। কিছু ধর্মীয় কারণে মুসলিম সম্প্রদায় এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন না। তাদের বিশ্বাস, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, তাই দেশকে মা বা দেবী হিসেবে তুলনা করা ঈশ্বরের একত্ববাদের পরিপন্থী। স্বাধীনতার পর থেকে মুসলিম সমাজের একটি অংশের মধ্যে এই ধারণা প্রচলিত আছে এবং রাজনৈতিক নেতারা যেমন আব্বাস সিদ্দিকী বা নওশাদ সিদ্দিকীকেও কখনো প্রকাশ্যে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে দেখা যায়নি।

শওকতের সাহসী পদক্ষেপ:
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে শওকতের এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘ট্যাবু ভাঙার’ চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার এই স্লোগান অনেকের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সমালোচকদের একাংশ শওকতের এই কাজের প্রশংসা করে বলেছেন, দেশ সবার। হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে সকল ভারতীয়র ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই ‘বন্দে মাতরম’ বলার অধিকার সবার আছে। তাদের মতে, স্বাধীনতার আগে দেশের মানুষ দেশমাতৃকাকে দেবী রূপে পূজা করেছে বলেই আজকের এই দিনটি সম্ভব হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ:
অনেকে মনে করেন, কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী স্বাধীনতার পর এই ধরনের ‘ট্যাবু’ চালু করেছিল। শওকতের আজকের স্লোগান বিতর্কের জন্ম দিলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এই স্লোগানের মাধ্যমে তিনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে দেশের উন্নয়নে ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।