বিশেষ: কৌশিকী অমাবস্যা আগস্টেই, জেনে নিন দিনক্ষণ ও তারাপীঠে পুজো দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব

হিন্দু ধর্মানুসারে, ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথি ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামে পরিচিত, যা মা তারার আরাধনার জন্য এক বিশেষ পবিত্র সময়। এই বছর ২৩শে অগাস্ট (৬ই ভাদ্র), শনিবার অহোরাত্র থাকবে এই তিথি। ২২শে অগাস্ট সকাল ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ২৩শে অগাস্ট সকাল ১১টা ২২ মিনিট পর্যন্ত অমাবস্যা থাকবে।

কৌশিকী অমাবস্যার সঙ্গে তারাপীঠ মন্দিরের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন তারাপীঠ শ্মশানে তন্ত্রমন্ত্রের বিশেষ সাধনা চলে। হিন্দু এবং বৌদ্ধ উভয় তন্ত্রেই এই দিনের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। তন্ত্র মতে, এই রাতকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়। বলা হয়, এই বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরকের দরজা ক্ষণিকের জন্য খুলে যায়, এবং সাধকেরা তাদের ইচ্ছামতো শক্তি লাভ করে সিদ্ধিলাভ করেন।

ভক্তদের বিশ্বাস, এই তিথিতে তারাপীঠ মন্দিরে বিশেষ পুজোয় অংশ নিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে জীবনের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত এই দিনে তারাপীঠ মন্দিরে ভিড় জমান।

পৌরাণিক তাৎপর্য:

কৌশিকী অমাবস্যার নামের পেছনে একটি পৌরাণিক কাহিনি আছে। মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে, একসময় শুম্ভ-নিশুম্ভ নামক দুই অসুরের অত্যাচারে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। তখন দেবতারা দেবী পার্বতীর শরণাপন্ন হন। দেবতাদের রক্ষা করতে দেবী মহামায়া তার ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করে ‘কৌশিকী’ নামের এক দেবীর জন্ম দেন। দেবী কৌশিকীই সেই দুই অসুরকে বধ করেন। যুদ্ধের সময় তার শরীর থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা মাতৃকার সৃষ্টি হয়, যারা সমগ্র অসুরকুলকে বিনাশ করেন। এই ঘটনাটি ভাদ্র অমাবস্যায় ঘটেছিল, যে কারণে এটি পরবর্তীকালে কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও, কথিত আছে যে ১২৭৪ বঙ্গাব্দে সাধক বামাক্ষ্যাপা এই কৌশিকী অমাবস্যাতেই তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। এই দিনেই তিনি তারা মায়ের আবির্ভাব পেয়েছিলেন।