আলাস্কায় মুখোমুখি ট্রাম্প-পুতিন, জেনেনিন কী চান দুই বিশ্বনেতা? রইলো বিস্তারিত

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ আলাস্কায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এই বৈঠক থেকে দুই নেতাই ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করবেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে। পুতিন চাইছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের উপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, ট্রাম্প নিজেকে একজন বৈশ্বিক শান্তিদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রহী।
পুতিনের লক্ষ্য: আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও জয়
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য এই বৈঠকটি একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়। এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে চান যে পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়াকে একঘরে করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠক এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা ক্রেমলিনকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, রাশিয়া আবার বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে ফিরে এসেছে। আলাস্কাকে বৈঠকের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে এটি সুবিধাজনক, কারণ এটি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে। এছাড়াও, ইউক্রেন ও ইউরোপ থেকে দূরে হওয়ায় কিয়েভ এবং ইইউ নেতাদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও আলাস্কা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯ শতকে জার-শাসিত রাশিয়া এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল। মস্কো এখন এই ইতিহাসকে সীমান্ত পরিবর্তন এবং ভূখণ্ড দখলের যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে পুতিন শুধু প্রতীকী জয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি ইউক্রেনের চারটি দখলকৃত অঞ্চল—দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া এবং খেরসন—পুরোটা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য এই শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ক্রেমলিন আশা করছে, যদি ট্রাম্প এই দাবিকে সমর্থন করেন, তাহলে কিয়েভের অসম্মতির পর যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেবে। এর ফলে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার পথ খুলবে। যদিও রাশিয়ার অর্থনীতি এখন কিছুটা চাপের মুখে আছে, তবে আপাতত মস্কো মনে করছে যে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
ট্রাম্পের লক্ষ্য: শান্তি প্রক্রিয়ার কৃতিত্ব
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন যে তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তিনি কখনো ইউক্রেন, আবার কখনো রাশিয়ার প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সমালোচনা করলেও, রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা তিনি কার্যকর করেননি। এখন তিনি আলাস্কার বৈঠকে ‘ল্যান্ড-সোয়াপিং’-এর মতো প্রস্তাব দিতে পারেন, যা কিয়েভের জন্য উদ্বেগের কারণ।
ট্রাম্পের মন্তব্য প্রায়শই পরস্পরবিরোধী। কখনো তিনি বলছেন এই আলোচনা ‘শুনানি সেশন’, আবার কখনো বলছেন দুই মিনিটেই তিনি বুঝে যাবেন যে চুক্তি সম্ভব কিনা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধ শেষ করা নেতা হিসেবে দেখাতে চান। তার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি গর্বিতভাবে নিজেকে ‘শান্তিদূত’ হিসেবে পরিচয় দিতে চেয়েছিলেন এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে।
ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় নেতারা বৈঠকের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাতে তিনি কিয়েভের জন্য অগ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না করেন। ওভাল অফিসে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ তার কাছে সবচেয়ে কঠিন সংঘাতের সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি বৈঠকের শেষে তিনি শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির দাবি করার সুযোগ পান, তবে তিনি তা অবশ্যই করবেন। আর পুতিন হয়তো রাশিয়ার শর্তে তা হতে দেবেন।