মাওবাদী ‘অধ্যুষিত’ এলাকায় উড়ল তিরঙ্গা, প্রথমবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করলো এই গ্রামগুলি

স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে ছত্তিশগড়ের অবুঝমাড় এবং বীজাপুর ও সুকমা জেলার সাতটি গ্রামে প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই অঞ্চল মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সুরক্ষা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে এখন সেখানে মাওবাদীদের প্রভাব অনেকটাই কমেছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদীদের নির্মূল করার সময়সীমা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে অবুঝমাড়ে সুরক্ষা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত ১০০ জন মাওবাদীকে খতম করা হয়েছে।
শুক্রবার অবুঝমাড়ের সাতটি গ্রাম – কুতুল, বেদমাকোটি, পদমকোট, নেলাঙ্গুর, পাঙ্গুর, কান্দুলনার এবং রেইনারে – স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। এই গ্রামগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা মাওবাদী প্রভাবের সময়ে ছিল অকল্পনীয়।
বস্তার রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ পি সুন্দররাজ বলেন, “অবুঝমাড়ের ৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৬০ শতাংশ এখন সুরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সম্প্রতি সেখানে নতুন সিকিউরিটি ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, এলাকার প্রান্তিক গ্রামগুলোতে নেটওয়ার্ক পরিষেবা নিশ্চিত করতে ১২০টি নতুন মোবাইল টাওয়ার বসানো হবে। একই সঙ্গে জল, বিদ্যুৎ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক সুবিধাগুলো উন্নত করার জন্য প্রশাসন কাজ করছে। এই পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে, অবুঝমাড় ধীরে ধীরে মাওবাদী প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে।