নকশালমুক্ত গ্রামে প্রথমবার উড়ল তেরঙ্গা, বস্তারে নতুন ভোরের সূচনা!

দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে ছত্তিশগড়ের নকশাল প্রভাবিত ২৯টি গ্রামে প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হলো। দীর্ঘ তিন দশক ধরে নকশাল সন্ত্রাসের কারণে এই গ্রামগুলোতে স্বাধীনতা দিবসের কোনো উদযাপন হতো না। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি বস্তার অঞ্চলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

নকশাল সন্ত্রাসের অবসান ও উন্নয়নের ধারা
বস্তার বিভাগে সাতটি জেলা রয়েছে, যেখানে বামপন্থী চরমপন্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নকশালরা গ্রামবাসীদের উপর ‘মিথ্যা স্বাধীনতা’র তত্ত্ব চাপিয়ে জাতীয় উৎসব বয়কট করতে বাধ্য করত এবং অনেক ক্ষেত্রে কালো পতাকা উত্তোলন করত। তবে গত দুই বছরে পুলিশের নিরন্তর অভিযান ও নতুন নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে।

রাজ্য সরকারের ‘নেল্লানার’ (Nellanar) প্রকল্পের অধীনে এই অঞ্চলগুলোতে রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ, মোবাইল টাওয়ার স্থাপন এবং অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এটি গ্রামবাসীদের মনে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।

যেসব গ্রামে প্রথমবার উড়ল জাতীয় পতাকা
এই স্বাধীনতা দিবসে নারায়ণপুর, সুকমা এবং বিজাপুর জেলার মোট ২৯টি গ্রামে প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

নারায়ণপুর: হোরাডি, গারপা, কচ্ছপাল, কোডলিয়ার, কুটুল, বড়েমাকোটি, পদ্মাকোট, কন্দুলনার, নেলাঙ্গুর, পাঙ্গুর, রায়নার।

সুকমা: রাইগুডেম, তুমালপাদ, গোলাকুন্ডা, গোমগুডা, মেট্টাগুডা, উস্কাভায়া, মুলকাথঙ।

বিজাপুর: কন্ডাপল্লি, জিডাপল্লি, ভাটেবাগু, কারেগুট্টা, পিদিয়া, গুঞ্জেপার্টি, পুজারি, কঙ্কের, ভীমারাম, করচোলি ও কোটপল্লি।

এই সাফল্য ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড, ‘বস্তার ফাইটারস’, বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টার ফল। সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চৌহান জানান, নিয়মিত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং নেল্লানার প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।