যে গ্রামে আজও হয়নি ‘দুর্গাপুজো!’, নাম কী জানেন? এর আসল কারণ জেনেনিন তাহলে

যখন সারা বাংলা দুর্গাপূজার আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ২ ব্লকের সীতাহাটি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিধানপল্লী গ্রামটি যেন এক ভিন্ন বাস্তবতায় আটকে আছে। এই গ্রামে আজ পর্যন্ত কখনও দুর্গাপূজা হয়নি। মাত্র ৩০-৩৬টি পরিবার ও ২৫০ জন মানুষের এই গ্রামটি বাইরের দুনিয়া থেকে এতটাই বিচ্ছিন্ন যে দুর্গাপূজা তাদের কাছে আজও এক অধরা স্বপ্ন।

দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার যন্ত্রণা
গ্রামের প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সরু মেঠো আলপথ পেরিয়ে তবেই গ্রামে পৌঁছানো যায়। এই পথ ঝোপঝাড় ও ঘন জঙ্গলে ভরা, যেখানে সাপের ভয় নিত্যসঙ্গী। এরপরই আসে ঈশানী নদী, যা পার হওয়ার জন্য কোনো সেতু নেই। আগে একটি বাঁশের সেতু ছিল, কিন্তু এখন সেটিও জলের নিচে। ব্যক্তিগত ডিঙি নৌকা ছাড়া নদী পারাপারের অন্য কোনো উপায় নেই, যার ফলে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

গ্রামের বাসিন্দা পরিমল বিশ্বাস বলেন, “যাতায়াতের সুবিধার অভাবে আমরা দুর্গাপূজা করতে পারি না। পুজোর কটা দিন সবাই আনন্দ করে, কিন্তু আমাদের গ্রামেই বসে থাকতে হয়। বাচ্চারা মন খারাপ করে, কিন্তু কী করব, ঠাকুর আনা যায় না।”

অন্ধকারে ঢাকা এক জীবন
বিধানপল্লী এক পুরোনো বসতি। একসময় পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষরা এখানে বসবাস শুরু করেন। চারপাশে ঘন জঙ্গল, রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা নেই, ঘরে জ্বলে টিমটিমে বৈদ্যুতিক আলো—সব মিলিয়ে অন্ধকারই যেন এই গ্রামের স্থায়ী সঙ্গী।

এই গ্রামের একমাত্র বড় উৎসব কালীপূজা। তখন গ্রামের মানুষজন ডিঙি নৌকায় করে মাইক ভাড়া করে আনেন এবং রাতভর উৎসব পালন করেন। কিন্তু দুর্গাপূজা দেখতে হলে তাদের অন্য গ্রামে যেতে হয়। যখন কলকাতার বড় বড় মণ্ডপে কোটি কোটি টাকা খরচ করে থিম ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়, তখন বিধানপল্লীর মানুষ শুধু দূর থেকে সেই রোশনাই দেখেন এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। আধুনিক যুগেও এমন গ্রামের অস্তিত্ব, যেখানে পৌঁছানোই একটি সংগ্রাম, সত্যিই অবাক করার মতো।