বাঘের ভয় তাড়াতে ছিল মোক্ষম ‘দাওয়াই!’, আধুনিকতার ভিড়ে বিলুপ্তির পথে এক লোকসংস্কৃতি

একসময় সুন্দরবনের মানুষের কাছে বাঘের ভয়, নদীর বিপদ এবং বনের কঠিন বাস্তবতায় একমাত্র ভরসা ছিল বনবিবির পালাগান। এই গান শুধু একটি লোকসংস্কৃতি নয়, বরং বনজীবীদের সাহস, বিশ্বাস এবং অস্তিত্বের প্রতীক ছিল। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। পালাগানের আসর এখন আর তেমন বসে না, অনেক শিল্পীও হারিয়ে গেছেন।
বনবিবির গান বাঁচিয়ে রেখেছে ঝড়খালীর নাট্যসংস্থা
এমন এক পরিস্থিতিতেও আশার আলো দেখিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালীর বনবিবি নাট্য সংস্থার সদস্যরা। নিজেদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে এই প্রাচীন লোকগানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। গ্রামের মাঠে, নদীর পাড়ে অথবা কোনো উৎসবের মঞ্চে আজও তাঁরা গেয়ে চলেছেন বনবিবির গান, যেখানে মিশে থাকে ভয়, বিশ্বাস আর প্রকৃতির সঙ্গে ভালোবাসার গল্প।
বনবিবির পূজা-অর্চনা
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, বিশেষত মৎস্যজীবীরা, বনবিবিকে তাদের ধ্যান-জ্ঞান মনে করেন। প্রতি বছর বনবিবির উৎসবে তাঁরা বাড়িতে নিরামিষ রান্না করেন এবং মহিলারা উপোস থেকে পান্তা ভাত খান। তাঁদের স্বামী বা পুত্ররা যখন মাছ, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে যান, তখন তারা বনবিবির কাছে সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ফিরে না আসা পর্যন্ত বাড়িতে কোনো ধুমধাম বা ভালো রান্না হয় না।
শিল্পীদের দাবি ও প্রত্যাশা
বনবিবির শিল্পীরা অভিযোগ করেন যে, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁরা সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য পান না। তাদের বিশ্বাস, যদি সরকার এগিয়ে আসে এবং এই লোকসংস্কৃতির দিকে নজর দেয়, তাহলে এই ঐতিহ্যকে আরও অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।