১২% GST স্ল্যাব কি উঠছে? প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বড় ইঙ্গিত, সেপ্টেম্বরে কাউন্সিলের বৈঠক

৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১০৩ মিনিটের ভাষণে আত্মনির্ভরশীল, শক্তিশালী এবং আত্মমর্যাদাশীল ভারতের স্বপ্ন উঠে এসেছে। এই ভাষণে তিনি ২০৪৭ সালের জন্য একটি উন্নত ভারতের চিত্র তুলে ধরেছেন। এরই মাঝে তিনি আসন্ন দীপাবলির জন্য দেশবাসীকে এক দারুণ সুসংবাদ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জিএসটি হারে বড়সড় হ্রাসের ঘোষণা করেছেন, যা জনগণের জন্য উৎসবের উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জিএসটি কাউন্সিলের দুই দিনের বৈঠকে এই কর সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই আলোচনায় ১২% জিএসটি স্ল্যাব বাতিল করা, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর করের হার কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমি এই দীপাবলিতে একটি দুর্দান্ত উপহার দিতে যাচ্ছি। গত আট বছর ধরে আমরা একটি বড় জিএসটি সংস্কার এবং সরলীকৃত কর ব্যবস্থা চালু করেছি। এখন, এর পর্যালোচনার সময় এসেছে। আমরা রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং ‘পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কার’ চালু করার জন্য প্রস্তুত।”
বর্তমানে, জিএসটি পাঁচটি প্রধান স্ল্যাবে বিভক্ত: ০%, ৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮%। প্রস্তাবিত সংস্কার অনুযায়ী, সরকার ১২% স্ল্যাবটি তুলে দিয়ে সেগুলোকে ৫% এবং ১৮% স্ল্যাবের মধ্যে আনার কথা ভাবছে। এর ফলে স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার মতো পরিষেবাগুলো সাশ্রয়ী হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত পণ্যের দাম কমবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি দীপাবলির উপহার হবে। এর ফলে প্রয়োজনীয় পরিষেবার উপর কর উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, এমএসএমইগুলো উপকৃত হবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সস্তা হবে। এতে অর্থনীতিতেও গতি আসবে।” অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ প্রাথমিকভাবে সরকারি রাজস্ব কিছুটা কমালেও, দীর্ঘ মেয়াদে বিক্রি বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থা সরল হওয়ার কারণে রাজস্ব বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্প মহল এবং রাজ্য সরকারগুলোর পক্ষ থেকে জিএসটি সংস্কারের দাবি জানানো হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং দীপাবলির আগেই এই সংস্কারগুলো কার্যকর হতে পারে।