GST-কমানো থেকে নতুন রোজগারের পথ, একনজরে দেখেনিন PM মোদীর ১০টি বড় ঘোষণা

৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লির লালকেল্লা থেকে মোট ১০৩ মিনিট ধরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, যা তার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই নিয়ে টানা ১২ বার স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ দিলেন তিনি। এদিন মোদীর ভাষণে উঠে আসে ‘নতুন ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, যা দেশের ভবিষ্যতের দিশা দেখায়।
১. দীপাবলিতে ‘ডাবল উপহার’ এবং জিএসটি সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, এই দীপাবলিতে দেশবাসী দুটি বড় উপহার পেতে চলেছেন। তিনি বলেন, “এখন সময় জিএসটি হার পর্যালোচনা করার।” নতুন প্রজন্মের জন্য জিএসটি সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর থেকে করের বোঝা কমানো হবে এবং জিনিসের দাম কমানো হবে।
২. যুবকদের জন্য ১৫,০০০ টাকা: প্রধানমন্ত্রী আজ থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’ চালু করার কথা ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের অধীনে, বেসরকারি খাতে প্রথমবার চাকরিপ্রাপ্ত যুবকদের সরকার ১৫,০০০ টাকা করে দেবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো প্রায় ৩.৫ কোটি যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
৩. সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে কড়া বার্তা: সিন্ধু জলচুক্তিকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রক্ত এবং জল একসঙ্গে প্রবাহিত হবে না। ভারতের কৃষকদেরই তাদের ভাগের জলের উপর অধিকার থাকবে।”
৪. পারমাণবিক হুমকি বরদাস্ত নয়: পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকির জবাবে মোদী নাম না করে বলেন, “ভারত আর কোনো পারমাণবিক ব্ল্যাকমেল সহ্য করবে না।” তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করে বলেন, এটি সীমান্তপার থেকে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভেরই প্রতিফলন।
৫. সেমিকন্ডাক্টর ও জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা: প্রধানমন্ত্রী জানান, এই বছরের শেষ নাগাদ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ চিপ বাজারে আসবে। তিনি আগের সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, ৫০-৬০ বছর ধরে এই উদ্যোগ ফাইলবন্দি ছিল। পাশাপাশি, জ্বালানির ক্ষেত্রেও স্বনির্ভর হওয়ার উপর জোর দেন তিনি।
৬. ১০টি নতুন পরমাণু চুল্লি: প্রধানমন্ত্রী জানান যে, দেশ পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং ১০টি নতুন পরমাণু চুল্লি তৈরির কাজ চলছে। তিনি এই খাতে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের জন্য পথ খুলে দিয়েছেন।
৭. ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন: প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের কাছে আবেদন জানান যে, ভারতের যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন ভারতেই তৈরি করা উচিত। তিনি ‘ন্যাশনাল ডিপ ওয়াটার মিশন’ এবং ‘অপারেশন গগনযান’-এর মতো প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।
৮. ‘হাই-পাওয়ার ডেমোক্রেটিক মিশন’ চালু: অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে এবং দেশের জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করতে ‘হাই-পাওয়ার ডেমোক্রেটিক মিশন’ চালু করার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা কর্মসংস্থান এবং সামাজিক কাঠামোকে নষ্ট করছে।
৯. ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্প: দেশের সুরক্ষার জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে একটি জাতীয় সুরক্ষা ঢাল তৈরির কথা বলেন মোদী। তিনি জানান, এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে দেশের যুবক ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা ভারতেই তৈরি হবে।
১০. ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ চিপ বাজারে: প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি যুবসমাজকে জানাতে চাই যে এই বছরের শেষ নাগাদ, ভারতের তৈরি সেমিকন্ডাক্টর চিপ বাজারে আসবে।”