মুর্শিদাবাদে গঙ্গার তাণ্ডব! আকাশের নীচে জীবন কাটচ্ছে গ্রামবাসীদের, মুখ তুলে চাইছে না প্রশাসন

বিগত তিন বছর ধরে মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জে গঙ্গার ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। এবার নতুন করে উত্তর চাচন্ড এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই ভাঙনের ভয়ে বহু মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে অথবা স্কুলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষেরা অভিযোগ করেছেন, গঙ্গার জলস্তর বাড়লেই ভাঙন তীব্র হয়। প্রশাসন ভাঙন রোধের জন্য বালির বস্তা দিয়ে কাজ করলেও, সেই কাজ অতি নিম্নমানের এবং বর্ষার জল বাড়লেই তা ভেসে যায়। স্থানীয়দের দাবি, পাথর দিয়ে পাড় বাঁধানো হলে তবেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বহুবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও এই কাজে কোনো অগ্রগতি হয়নি, যার ফলস্বরূপ প্রতি বছরই সামশেরগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন।
প্রশাসনিক সাহায্য ও মানুষের দুর্দশা
ভাঙন শুরু হওয়ার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনে এলেও, এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ত্রিপল, চাল এবং ডাল ছাড়া অন্য কোনো সাহায্য মেলেনি। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কোনো সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও সেই কাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ফারাক্কা—সব জায়গাতেই ভাঙন চলছে।
বর্তমানে ভাঙনে সব হারানো এই মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাচ্ছেন এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কবে তাদের এই দুর্দশার অবসান হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবার মনে।