ইতিহাসের বিতর্কিত চরিত্র রবার্ট ক্লাইভ, মৃত্যু রহস্য আজও অজানা

১৭৭৪ সালের ২২ নভেম্বর, এক বিতর্কের মধ্য দিয়েই শেষ হয় ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি এবং পলাশীর যুদ্ধের নায়ক রবার্ট ক্লাইভের জীবন। তার মৃত্যুর খবর গোটা লন্ডন জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। যদিও তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা আজও একটি রহস্য। কেউ বলেন তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন, কেউ বলেন আফিমের অতিরিক্ত ডোজ তার মৃত্যুর কারণ। তবে করোনারের রিপোর্টে (তৎকালীন ময়নাতদন্ত) মৃত্যুর সঠিক কারণ উল্লেখ না থাকায় সেই রহস্য আজও অমীমাংসিত।
১৭২৫ সালে স্টাইচে জন্মগ্রহণ করা রবার্ট ক্লাইভ ছোট থেকেই ছিলেন অত্যন্ত দুঃসাহসী ও উচ্চাকাঙ্খী। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন জুনিয়র ক্লার্ক হিসেবে তিনি ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে আসেন। তার সাহস ও সামরিক বুদ্ধির পরিচয় পাওয়ার পর তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ১৭৫৬ সালে তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলার হাত থেকে কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন এবং পরের বছর ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে সিরাজকে পরাজিত করে বাংলার নবাবী দখল করেন। এই বিজয়ই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে, যদিও অনেকেই তার এই বিজয়কে ‘তঞ্চকতা’ বলে অভিহিত করেন।
১৭৬০ সালে ক্লাইভ যখন ইংল্যান্ডে ফেরেন, তখন তিনি দেশটির অন্যতম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বাংলা থেকে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার পাউন্ড এবং একটি জায়গির থেকে বছরে ৩০ হাজার পাউন্ড আয় করতেন। ১৭৬২ সালে তাকে ‘ব্যারন ক্লাইভ অফ পলাশি’ উপাধি দেওয়া হয়। তবে ইংল্যান্ডে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে লোভের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৭৬৫ সালে তিনি আবার ভারতে ফিরে আসেন এবং মুঘল সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদের চুক্তি করে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার কর আদায়ের দায়িত্ব কোম্পানির হাতে এনে দেন। এর ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত হয়। কিন্তু ১৭৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে এর দায়ভার ক্লাইভের ওপর পড়ে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তাকে একাধিকবার জবাবদিহি করতে হয়।
এই সমস্ত ঘটনার পর ধীরে ধীরে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে এবং তিনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে ১৭৭৪ সালের ২২ নভেম্বর লন্ডনের বার্কলি স্কোয়ারে নিজের বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ইতিহাসের পাতায় তার উত্থান-পতনের মতোই তার মৃত্যুও এক বিতর্কের বিষয় হয়েই রয়ে গেল।