পথকুকুরের কামড়ে বাড়ছে জলাতঙ্ক, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আবহে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

দিল্লির রাস্তা থেকে পথ কুকুরদের সরিয়ে নেওয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। একদিকে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, ভারতে পথ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক (Rabies) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বাস্তব তথ্য অনুযায়ী, পথ কুকুরের কামড় এদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মারা যায়, যা বিশ্বে মোট মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ। এই মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনায় শিকার হন শিশু, বয়স্ক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষজন।

জলাতঙ্ক কেন এত মারাত্মক?
জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সংক্রমিত কুকুরের লালার মাধ্যমে মানব শরীরে প্রবেশ করে। এই ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছালে হাইড্রোফোবিয়া, বিভ্রান্তি, পেশীর খিঁচুনি, পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গ দেখা দেয় এবং এর পর মৃত্যু প্রায় অনিবার্য। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এই ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এড়িয়ে যায়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ:
১১ আগস্ট, সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ দিল্লি-এনসিআর এলাকা থেকে দ্রুত সব পথ কুকুরকে ধরে নির্দিষ্ট শেল্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার আরেকটি বেঞ্চ এই মামলার শুনানি শুরু করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে এই সমস্যার জন্য দায়ী করেছে।

ভ্যাকসিনের গুরুত্ব ও সচেতনতা:
জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও, কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে এর প্রতিরোধ সম্ভব। কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা আবশ্যক। বর্তমানে ভারতে এইচডিএভি, পিভিআরভি, ইন্ডির‍্যাব-এর মতো আধুনিক এবং কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। যদি ক্ষত গভীর হয় বা চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, তবে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দিতে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দেওয়া হয়।

তবে ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাব, চিকিৎসা পেতে দেরি এবং গ্রামীণ এলাকায় ভ্যাকসিনের ঘাটতির কারণে ভারতে মৃত্যুর হার বেশি। তাই পথ কুকুরের কামড়ের পর সঙ্গে সঙ্গে সাবান ও জল দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে ক্ষত ধোয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই সমস্যার সমাধানে কুকুর নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।