ভারতে ‘স্মার্ট সিটিজেনশিপ কার্ড’ চালুর ভাবনা, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাঝে নাগরিকত্ব প্রমাণে নতুন বিতর্ক

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই ভারতে নাগরিকত্বের প্রমাণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, জন্ম সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্টকে বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকার ‘স্মার্ট সিটিজেনশিপ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিতে চলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড কোনোভাবেই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। অথচ এই দুটি নথিই বেশিরভাগ সরকারি কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণের উপায় নিয়ে এক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই ধোঁয়াশা কাটাতে এবার ‘স্মার্ট সিটিজেনশিপ কার্ড’ ইস্যু করার কথা চর্চায় এসেছে। সরকারি সূত্রে খবর, দেশজুড়ে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং জনগণনার পর শুধুমাত্র ভারতের বৈধ নাগরিকদের জন্য এই কার্ড চালু করা হতে পারে।
এই বিষয়ে সম্প্রতি সংসদে তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে প্রতিটি নাগরিককে নথিভুক্ত করা এবং বাধ্যতামূলকভাবে সিটিজেনশিপ কার্ড দেওয়ার অধিকার কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ন্যাশনাল সিটিজেনশিপ কার্ড চালু করার একটি পরিকল্পনা কেন্দ্রের রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি।
যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জন্ম সার্টিফিকেট বা পাসপোর্ট নেই এমন কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিকের জন্য নতুন করে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার প্রয়োজন হতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের সংজ্ঞা এবং প্রমাণপত্রের বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।