চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, জীবিত চা শ্রমিকদের মৃত দেখিয়ে পিএফের টাকা আত্মসাৎ, তদন্তের দাবি

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ব্লকের বন্ধ ধরনীপুর চা বাগানে শতাধিক জীবিত চা শ্রমিককে মৃত দেখিয়ে তাদের পিএফ এবং বীমার টাকা আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জাল ডেথ সার্টিফিকেট ব্যবহার করে একটি বড় চক্র এই দুর্নীতি চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অভিযোগ নিয়ে আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতৃত্বে চা শ্রমিকরা জলপাইগুড়ি রিজিওনাল পিএফ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন এক চা শ্রমিক তার পিএফ অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করতে গিয়ে দেখেন তিনি অফিসিয়াল রেকর্ডে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত। শুধু একজন নয়, ধরনীপুর চা বাগানে এমন ১৮৪ জন শ্রমিক রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নাগরাকাটা ব্লক কমিটির সম্পাদক বিকাশ বার্লা বলেন, “আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে জীবিত মানুষদের মৃত দেখিয়ে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট বানিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা পিএফ দফতরে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়েছি এবং এর তদন্ত দাবি করছি।” তিনি আরও বলেন, তারা এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও আবেদন জানাবেন। আগামী মাসে তারা ন্যাশনাল কমিশন ফর শিডিউলড ট্রাইব-এর দ্বারস্থ হওয়ার জন্য দিল্লি যাবেন বলেও জানান।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ির রিজিওনাল পিএফ কমিশনার পবন কুমার বনসাল বলেন, “সঠিক নিয়ম মেনে এবং ডেথ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার পরই পিএফের টাকা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট কারা ইস্যু করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে।”
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা বলেন, “আমরা বারবার বলে এসেছি পিএফ দফতরে অনিয়ম চলছে এবং একটি চক্র এই টাকা আত্মসাৎ করছে।” এই ঘটনায় চা শ্রমিক সুশিলা মুর্মু, পুনিয়া ওড়াও এবং ফুলো মুন্ডা তাদের কষ্টের সঞ্চয় হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।