‘প্রতিদিন সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা পুলিশকে দিতে হয়’, মাছ ব্যবসায়ীদের বিস্ফোরক অভিযোগ

পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না উপজেলার মাছ ব্যবসায়ীরা পুলিশকে নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, মাছ বোঝাই গাড়ি বাজারে নিয়ে যেতে পুলিশকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এই অভিযোগ শুধু মাছের গাড়ি নয়, মাছের খাবার পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। রাজ্য বিধানসভার মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে এই বিস্ফোরক অভিযোগটি করা হয়েছে।

ময়না ‘ফিস ফার্মার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক পিন্টু দাস অভিযোগ করেন, “প্রতিদিন ময়না থেকে অন্তত ৫০০টি মাছের গাড়ি পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার এবং ওড়িশার মতো রাজ্যে যায়। প্রতিটি গাড়ির জন্য পুলিশকে দৈনিক আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়। এর ফলে ৫০০ গাড়ির জন্য আমাদের মোট সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা পুলিশকে দিতে হয়।” তিনি আরও জানান যে, ময়না বাইপাস থেকে তমলুকের নিমতৌড়ি পর্যন্ত চারটি স্থানে পুলিশকে এই টাকা দিতে হয়।

স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা পিন্টু দাসের এই বক্তব্য শুনে হতবাক হয়ে যান। তাঁরা এই বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন। স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারপার্সন রুকবানুর রহমান এবং অন্যান্য সদস্যরা দু’দিনের সফরে পূর্ব মেদিনীপুরে এসে ময়নার বিডিও অফিসে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সেখানেই এই অভিযোগটি সামনে আসে।

পিন্টু দাস আরও বলেন, “ময়না বর্তমানে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাছ সরবরাহ করে। দুঃখের বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা সত্ত্বেও আমরা সরকারের কাছ থেকে তেমন কোনো সাহায্য পাচ্ছি না।” তিনি জানান, দুই মাস আগে নদিয়ার নবদ্বীপে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরীর সামনেও তাঁরা একই অভিযোগ তুলেছিলেন, কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী বলেন, “স্ট্যান্ডিং কমিটিকে কী বলা হয়েছে, তা আমি খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।” অন্যদিকে, এই বিষয়ে জেলার পুলিশকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিরোধী দল বিজেপি এই অভিযোগ নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছে।